অর্থ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সন্তানকে কি শেখাবেন?

আপনার কি মনে আছে ছোটবেলার কথা? আপনি বাবার কাছে বায়না ধরেছেন, জামা কিনে দেওয়ার জন্য অথবা একটা খেলনা কিনে দেওয়ার জন্য? আপনার মনে হয়েছে যে, আপনার বাবার কাছে পর্যাপ্ত টাকা আছে কিন্তু তারপরেও বাবা আপনাকে পছন্দের জিনিসটা কিনে দিচ্ছেন না। আর সেটা নিয়ে আপনার কত মন খারাপ, কত অভিমান, কত কান্নাকাটি। তখন হয়তো আপনার খুব রাগ হতো, খুব কষ্ট হতো যে আপনার বাবার কাছে টাকা থাকা সত্ত্বেও এ সামান্য আবেদনটুকু তিনি রাখছেন না। আজ যখন আমরা বাবা হয়েছি, আমাদের সন্তানরা যখন আবদার করেন এবং আমরা দিতে পারি না তখন আমাদের বাবাদের কষ্টটা আমরা বুঝতে পারি।

আমাদের প্রত্যেকের একটা ফিন্যান্সিয়াল স্টোরি আছে। আপনি চোখ বুজে আপনার ছোটবেলায় ফিরে যান, সেখান থেকে এখন এই বেড়ে ওঠা পর্যন্ত আপনি পরিভ্রমণ করে আসুন। দেখবেন যে, অনেক ধরনের স্টোরি আপনার মাথার মধ্যে আছে। বিশেষ করে ছোটবেলার না পাওয়ার বেদনাগুলো, ছোটবেলার পাওয়ার আনন্দগুলো আমাদের মনে জ্বলজ্বল করছে। প্রত্যেক মানুষের জীবনে বাবা-মায়ের সাথে বেড়ে ওঠার সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

 আপনি তাকে শিখান, তাঁর হাতে যে টাকা এসেছে তার একটা বড় অংশ তাকে সঞ্চয় করতে হবে। আবার আপনি তাকে বলতে পারেন যে, ‘তুমি যদি এক বছরে দুই হাজার টাকা সঞ্চয় করতে পারো, তাহলে আমিও তোমাকে দুই হাজার টাকা দিব’। তাহলে তার চার হাজার টাকা হবে। তাকে ইনসেনটিভ দিন সে উৎসাহিত হবে

আমি পার্সোনাল ফাইনাল সম্পর্কে কিছু টিপস দেব যেটা ইচ্ছে করলে আপনার সন্তানদের আপনি শেখাতে পারেন। শৈশব আপনার সন্তানের মনে সারা জীবন জ্বলজ্বল করে জ্বলতে থাকবে। সেজন্য শৈশবে আপনার সন্তান আপনার কাছ থেকে কি শিখল সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি আলোচনা করবো আপনি আপনার সন্তানকে পার্সোনাল ফাইন্যান্স সম্পর্কে কি কি শেখাবেন এবং কীভাবে তাকে প্রভাবিত করবেন সেই সম্পর্কে।

দেখুন, পার্সোনাল ফাইন্যান্স সম্পর্কে স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি আমাদের কিছু শেখায় না। সেখানে করপোরেট ফাইন্যান্স সম্পর্কে শেখায়, কিন্তু লাইফ স্কিলের যে বিরাট ভান্ডার আছে তার বিশেষ কিছু শেখাতে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা অতটা অগ্রগামী নয়।

যা হোক প্রথমে আপনাকে ফাইন্যান্সিয়ালি লিটারেট হতে হবে কারণ পার্সোনাল ফাইন্যান্স ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে আপনিও হয়তো শিখেননি। এই শিক্ষায় যখন আপনি শিক্ষিত হবেন তখন আপনার জন্য সহজ হবে আপনার সন্তানকে প্রশিক্ষিত করা। আপনি জানেন, পুয়োর ড্যাড-এর লেখক রবার্ট কিয়োসাকির বাবা ‘পুয়োর ড্যাড’ খুব শিক্ষিত মানুষ ছিলেন কিন্তু তার কাছ থেকে উনি ফিন্যান্সিয়াল লিটিরেসি শিখতে পারেননি কারণ উনার বাবার ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি ছিল না। উনি শিখেছিলেন ওনার বন্ধুর বাবার কাছ থেকে যিনি ফিন্যান্সিয়ালি লিটারেট ছিলেন। তাই আপনি যদি আপনার সন্তানকে শেখাতে চান, প্রথম কথা হচ্ছে আপনিই আগে শিখুন তারপর আপনার সন্তানকে শেখান।

প্রথম যে জিনিসটা আপনার সন্তানকে আপনি শিখাবেন সেটা হলো বাজেটিং করা। বাজেটিং হচ্ছে আপনি আপনার আয় দিয়ে পুরো মাস খরচটা কীভাবে করবেন সেই প্ল্যানিং করা এবং সেটা লিখে ফেলা। আপনি গ্রোসারির ওপরে কত ব্যয় করবেন, ওষুধের পেছনে কত ব্যয় করবেন, ইউটিলিটির পেছনে কত ব্যয় করবেন, বাচ্চার স্কুলের টিউশন ফির পেছনে কত ব্যয় করবেন ইত্যাদি।

তাছাড়া আপনি বাচ্চাকে সপ্তাহে একদিন আউটিংয়ে নেবেন বা পরিবারসহ কোথাও রেস্টুরেন্ট খাবেন কি না। তার পেছনে কত ব্যয় করবেন এরকম আপনার যে যে ব্যয়ের খাতগুলো আছে সেই খাতগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো লিখে ফেলা এবং তার পেছনে কত টাকা আপনি ব্যয় করবেন সেটাও লিখে ফেলা। আপনার পারিবারিক বাজেটিং করার সময় আপনি আপনার সন্তানদের নিয়ে বসুন, আপনার স্ত্রী নিয়ে এক টেবিলে বসে এই বাজেটিংটা করুন। তাতে সুবিধা হচ্ছে আপনি যখন বাজেটিং করছেন, সবার সাথে আলোচনা করছেন, তারা খুব আনন্দ পাবে।

সবচাইতে বড় কথা হচ্ছে তারা বুঝতে পারবে যে, আপনার যে ইনকাম ঘরে আসছে সেই টাকার মধ্যে থেকে আপনি কীভাবে বাজেটটা তৈরি করছেন। বাজেটিং প্রক্রিয়ায় আপনার সন্তানকে ভালোভাবে ইনভল্ব করুন, মতামত নিন, তাহলে তারা বুঝতে পারবে যে আপনার ফিন্যান্সিয়াল অবস্থা কি এবং কোন দিকে আপনি যাচ্ছেন।

তখন দেখবেন, তাদের অনেক আবদার তারা আর করছে না। কারণ, তারা বাজেটিং সম্পর্কে প্রশিক্ষিত হবে এবং আপনার আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে বুঝতে পারবেন এবং এ বাচ্চা যখন বড় হবে তখন তার মনে পড়বে যে তার ছোটবেলায় তার বাবা-মা তার সাথে এভাবে বসে ফিন্যান্সিয়াল প্ল্যানিং করতেন। তখন তারাও তাদের বাচ্চাদের সাথে ঠিক একই আচরণ করবে।

দুই.
আপনার বাচ্চাকে ইমার্জেন্সি ফান্ড সম্পর্কে একটা ধারণা দিন। আপনার বাচ্চাকে আপনি শেখান যে প্রত্যেকটা পরিবারে যে কোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ চলে আসতে পারে। যদি কোনো বিপদ আসে তাহলে সেই বিপদকে মোকাবিলা করার জন্য আর্থিক সক্ষমতা লাগে। কমপক্ষে তিন মাস থেকে সর্বোচ্চ দুই বছর চলার জন্য যে টাকা লাগে সেই টাকাটা একপাশে সরিয়ে রাখা মানে হচ্ছে ইমার্জেন্সি ফান্ড গঠন করা।

বিপদ ছাড়া ওই টাকায় হাত দেওয়া যাবে না। এই ইমার্জেন্সি ফান্ডের মধ্যে আপনার বিলাস দ্রব্য আসবে না। এখানে আসবে আপনার বেসিক নেসেসিটি, আপনার লোনের ইন্সটলমেন্ট যদি থাকে সেটা, আপনার বাবা-মাকে যদি টাকা পাঠান লাগে সেটা, আপনার বাচ্চাদের টিউশন ফি যেটা লাগবে সেটা অর্থাৎ, যেগুলো না হলে নয়। আপনার ইমার্জেন্সি ফান্ড গঠন করা দরকার, এটা আপনি আপনার সন্তানকে শেখান।

তিন.
আপনি আপনার সন্তানকে শেখান, সঞ্চয় এবং বিনিয়োগ সম্পর্কে। সঞ্চয় কীভাবে করতে হবে, বিনিয়োগ কীভাবে করতে হবে ইত্যাদি। দেখুন আপনি যখন আপনার বাচ্চাকে এগুলো শিখাবেন, তারা খুব মজা পাবে। আপনার সন্তান কোনো আয় করছে না কিন্তু প্রতি মাসে সে ব্যয় করছে। তার হাতে বিভিন্নভাবে কিছু টাকা আসছে। কোনো নিকট আত্মীয়-স্বজন বেড়াতে এলে তাকে কিছু উপহার দিচ্ছে, ঈদের সময় তার হাতে কিছু টাকা আসছে, আপনি তাকে কিছু টাকা দিচ্ছেন, আপনার স্ত্রী তাকে কিছু টাকা দিচ্ছে।

আপনি তাকে শেখান, তার হাতে যে টাকা এসেছে তার একটা বড় অংশ তাকে সঞ্চয় করতে হবে। আবার আপনি তাকে বলতে পারেন যে, ‘তুমি যদি এক বছরে দুই হাজার টাকা সঞ্চয় করতে পারো, তাহলে আমিও তোমাকে দুই হাজার টাকা দেব’। তাহলে তার চার হাজার টাকা হবে। তাকে ইনসেনটিভ দিন সে উৎসাহিত হবে।

এক বছর পরে আপনি তাকে একটা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দিন এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে ট্রানজাকশনটা আপনি তাকে দিয়ে করান। তাকে নিয়েই ব্যাংকে যান এবং এই ব্যাংকের যে চেকবই তার কাছে দেন এবং তার কাস্টডিতে যত্ন করে তাকে রাখতে দিন। সে ভেতরে ভেতরে আনন্দ অনুভব করবে। তার মধ্যে একটা সেন্স অফ সিকিউরিটি কাজ করবে, যে তার কিছু টাকা আছে। এই যে শিক্ষা এটাও তার সারাজীবন ধরে মনে থাকবে এবং কাজে লাগবে।

চার.
আপনার সন্তানকে কেনাকাটা করতে শেখান। বাচ্চাদের নিয়ে আমরা যখন বাজারে যাই তখন আমরা কিনি বাচ্চারা সাথে থাকে। তারা তাদের আবদার করে, সেগুলো আমরা কিনে নিয়ে বাসায় চলে আসি। একটা কাজ করুন না, তার হাতে টাকা দিন তাকে বলুন দু-একটা জিনিস কিনতে। যেমন তার খেলনাটা তাকে কিনতে বলুন এবং তাকে বলুন দোকানদারের সাথে দরদাম করতে। কীভাবে বারগেইন করতে হয় সেটা শেখান তাকে।

আমি আমার ছোট বাচ্চাকে নিয়ে শপে গিয়েছি। যাওয়ার আগে তাকে আমি বলেছি যে ‘তুমি যে খেলনাই চাও কিনতে পারো কিন্তু তোমার বাজেট হচ্ছে পাঁচশো টাকা।’ সে মেনে নিয়েছে যে সে পাঁচশো টাকার মধ্যে খেলনা কিনবে। তারপরে যখন খেলনার দোকানে ঢুকেছি, আমি দেখলাম বাচ্চাটা খেলনার প্রাইসটা দেখছে আর রেখে দিচ্ছে। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, কি ব্যাপার? তুমি সব রেখে দিচ্ছ কেন? বলল ‘আব্বু তুমি যে বলেছ পাঁচশো টাকার মধ্যে কিনতে!’ আপনি যদি আপনার সন্তানকে এই শিক্ষাটাও দিতে পারেন সেটা তার ভবিষ্যৎ জীবনে অনেক কাজে লাগবে।

পাঁচ.
অ্যাসেট এবং লাইবিলিটির মধ্যে পার্থক্য শেখান। মূলত আমরা জানি যে, অ্যাসেট হচ্ছে সেই জিনিস যেটা থেকে ক্যাশ আপনার পকেটে ঢোকে। আর লাইবিলিটি হচ্ছে সেটা, যেটা আপনার পকেট থেকে টাকা বের করে নিয়ে যায়। এই যে অ্যাসেট এবং লাইবিলিটি এই দুটোর মধ্যে পার্থক্য করতে আপনার সন্তানকে শেখান। আমাদের দেশে যেটা হয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা টাকা দিয়ে লাইবেলিটি কিনি কিন্তু আমরা মনে করি অ্যাসেট কিনেছি। এই ভ্রান্তি আমাদের কাটানো দরকার।

ছয়.
আপনি আপনার বাচ্চাকে নিডস এবং ওয়ান্টসের মধ্যে পার্থক্য করতে শেখান। নিডস হচ্ছে, সেই জিনিস যেটা আপনাকে অবশ্যই কিনতে হবে আর ওয়ান্টস হচ্ছে সেটা, যেটা আপনার জীবনের কোয়ালিটি হয়তো বাড়ায় কিন্তু এটা আপনার জীবনের জন্য অতীব প্রয়োজনীয় নয়। ফুড, শেল্টার, এডুকেশন এগুলো হচ্ছে আপনার জীবনের জন্য অবশ্যই দরকারি, এগুলো হচ্ছে নিডস। গাড়ি, বাসার এয়ার কন্ডিশন এগুলো আপনার জীবনে ভ্যালু অ্যাড করে কিন্তু এগুলো না হলেও চলে। তাই এগুলো ওয়ান্টস। আপনার বাচ্চাকে নিডস এবং ওয়ান্টসের মধ্যে এই পার্থক্যটা করতে শেখান।

সাত.
অন্যের প্রভাব সম্পর্কে বাচ্চাদের সচেতন করতে শেখান। দেখবেন আপনার বাচ্চা স্কুল থেকে বাসায় এসে আপনাকে বলছে, ‘আমার আরও সুন্দর একটা ব্যাগ লাগবে, নতুন একটা গাড়ি লাগবে ইত্যাদি’। তার বন্ধুর নতুন ব্যাগ, ড্রেস বা গাড়ি তাকে প্রলুব্ধ করবে। একে বলে প্রদর্শন প্রভাব। মানে আরেকজনেরটা দেখে আপনার মধ্যেও সেই ধরনের জিনিস কেনার একটা প্রবণতা তৈরি হওয়া, একটা ঝোঁক তৈরি হওয়া।

সন্তানদের সাথে বসে এটা ডিসকাস করুন। তাদের বোঝান যে তারা শুধু বিশেষ প্রয়োজনে কোনো কিছু কিনবে। অন্যেরটা ভালো বলে সেটা কিনবে না। আপনি তাকে আপনার বাজেটটা বোঝান। তাহলে আপনি অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত খরচ থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারবেন। পাশাপাশি আপনার সন্তান শিক্ষা লাভ করতে পারবে এবং সে তার ভবিষ্যৎ জীবনে সেটা ব্যবহার করতে পারবে। এ লব্ধ জ্ঞান তখন সে কাজে লাগাতে পারবে এবং তার বাচ্চাদেরও সে সুন্দরভাবে গাইড করতে পারবে।

আট.
আপনি আপনার বাচ্চাকে ইন্সপায়ার করুন টাকা আয় করার জন্য। তাকে পথ বলে দেবেন না। তাকে বলুন যে, ‘তুমি চিন্তা করে মাত্র একটা টাকা আয় করো’। এই কথাটা যখন আপনি আপনার বাচ্চার মাথায় ঢুকিয়ে দেবেন, তখন সে চিন্তা করতে থাকবে আয় করার উপায়। অনেক চেষ্টার পরে যদি সে না পারে তখন সে বুঝবে যে আসলে টাকা আয় করা খুব কঠিন এবং বুঝবে যে বাবা-মায়েরা অনেক কষ্ট করে টাকা আয় করেন।

সুতরাং, টাকা আয় করার চ্যালেঞ্জটা তার মধ্যে ছুড়ে দিন। আপনার লাভ হোক বা না হোক সেদিকে চিন্তা করার দরকার নেই। দেখুন আপনার সন্তান কি করে। তার প্রতিক্রিয়া কি। দেখুন সে আপনার সাথে পরামর্শ করতে আসে কি না বা সে তার মতো করে কোনো পথ খুঁজে পায় কি না। বলা যায় না সে তার মতো করে একটা পথ খুঁজে পেতে পারে। এটা হতে পারে তার জন্য একটা বড় ধরনের শিক্ষা।

নয়.
আপনার সন্তানকে আপনি ধৈর্য ধরতে শেখান। ধরুন, আপনার বাচ্চা আপনাকে বললো যে তার একটা বাইসাইকেল দরকার। আপনি তাকে বলুন যে, সামনের মাসে কিনে দেব বা দু মাস পরে কিনে দেব। এই দুই মাস থেকে ধৈর্য ধরতে হবে। দেখবেন, আপনার বাচ্চা অনেক ছোট ছোট ব্যাপারে অনেকে অ্যাংজাইটিতে ভুগবে, অনেক টেনশন করবে, আপনি তার পাশে থাকুন। আপনি তাকে সহায়তা করুন। তাকে বোঝান যে অধৈর্য হওয়া যাবে না, ধৈর্য ধরে সবকিছুর জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

কন্টিনিউয়াসলি যেমন পড়াশোনা করতে হবে, ঠিক জীবনে যেকোনো ভালো কিছু পাওয়ার জন্য কন্টিনিউয়াসলি কাজ করতে হবে এবং ধৈর্য ধরা শিখতে হবে। ধৈর্য হচ্ছে সাংঘাতিক দুর্লভ একটি গুণ। ধৈর্য না থাকার কারণে মানুষ ভিন্ন ভিন্ন পথে চালিত হয় এবং মানুষ বিফল হয়। আপনার সন্তানকে যদি ফিন্যান্সিয়ালি লিটারেট করতে চান, ধৈর্যের শিক্ষাটাও খুব জরুরি।

দশ.
সবচেয়ে শেষের পয়েন্ট এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হচ্ছে আপনার সন্তান যখন কোনো ভুল করে তখন তাকে ভুল শুধরাতে সহায়তা করুন। দেখবেন, আপনি তাকে যে মেথড শেখাচ্ছেন, পড়াশোনা শেখাচ্ছেন, ফিন্যান্সিয়াল বিভিন্ন যে টিপস দিচ্ছেন সেগুলো শেখার পরেও মাঝে মাঝে ভুল করছে। যখন সে ভুল করছে তখন তাকে বকাঝকা না করে, গালমন্দ না করে তাকে আবার বোঝাতে হবে। তাকে মানসিকভাবে আহত করা যাবে না।

মনে রাখবেন ছোটবেলার আঘাত তাদের মনে অনেকদিন জীবন্ত থাকে। আমার ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া মেয়ে মনে রেখেছে তাকে কবে কান ধরে ওঠবস করানো হয়েছে। কষ্টের কথা সে ভুলেনি। ছেলেমেয়েরা কোনো কিছু ভুলে না। তাদের শাসন করা যাবে না এমনটি নয় কিন্তু শুধু আমাদের রাগ ঝাড়ার জন্য, রাগ কমানোর জন্য তাকে শাসন করাটা অযৌক্তিক হবে। যখন আপনার সন্তান কোনো ভুল করছে তাকে যতদূর সম্ভব ধৈর্য ধরে বোঝাতে হবে।

মোটকথা যখন আমরা আমাদের বাচ্চাদের ফিন্যান্সিয়াল ফিউচারকে সিকিউর করতে চাইবো তখন আমরা নিজেরা ফিন্যান্সিয়ালি লিটারেট হওয়ার পাশাপাশি তাদেরও ফিন্যান্সিয়াল লিটারেট করে তুলবো। তাহলে তারা তাদের ব্যক্তি জীবনে এই ইম্পর্টেন্ট লাইফ স্কিল শিখে নেবে এবং তারা ভবিষ্যতে খুব ভালো করবে।

লেখক: অর্থনীতি বিশ্লেষক, ফাইন্যান্স ও বিজনেস স্ট্রাটেজিস্ট; ইউটিউবার ও সিইও, ফিনপাওয়ার লিডারশিপ ইন্টারন্যাশনাল।