৮২ শতাংশ শিক্ষকের পদই শূন্য কারিগরিতে

দেশের উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয় কারিগরি শিক্ষাকে। এ জন্যই সরকার কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।

২০৩০ সালের মধ্যে মোট শিক্ষার্থীর ৩০ শতাংশ কারিগরিতে আনার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো সরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮২ শতাংশ শিক্ষকের পদই শূন্য। ফলে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কোনোরকমে চলছে কারিগরি শিক্ষা। এভাবে চলতে থাকলে কারিগরি শিক্ষার লক্ষ্য অর্জন দুরূহ হয়ে পড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দেশে বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৬৯১টি।  কারিগরিতে যারা শিক্ষকতা করেন তাদের পদের নাম সাধারণত জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর ও ইন্সট্রাক্টর। সরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের পদ রয়েছে ১৫ হাজার ৫৯৭টি। এর মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ২ হাজার ৮৯৩ জন। বাকি ১২ হাজার ৭০৩টি পদই শূন্য। যা শতাংশের হিসেবে প্রায় ৮২ শতাংশ।

তবে ৫ হাজার ২৬৫টি পদে শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শুধু শিক্ষক সংকটই নয় সরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মচারী সংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে। ৬ হাজার ৭০টি কর্মচারীর পদও শূন্য রয়েছে।

ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) এর সভাপতি এ কে এম এ হামিদ বলেন, ‘৮২ শতাংশ শিক্ষকের পদ ফাঁকা থাকার পরও তা পূরণ করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সদিচ্ছার অভাব দেখা যাচ্ছে। শিক্ষক নিয়োগের সার্কুলার দিলেও তা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে আছে। আমাদের দাবি, করোনার পর সরকার যেভাবে বিশেষ ব্যবস্থায় চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ দিয়েছে, সেভাবে কারিগরিতেও শিক্ষক নিয়োগ করা হোক। নয়তো এ সেক্টর বিশ্ব বাজার থেকে ছিটকে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল, কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির হার ২০২০ সালে ২০ শতাংশ, ২০৩০ সালে ৩০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশে উন্নীত করার। কিন্তু বাস্তবে ২০২০ সালের লক্ষ্য পূরণ হয়নি। সামনে লক্ষ্য কতটুকু পূরণ হবে, তা নিয়ে আমরা সন্দিহান।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এশিয়ার মধ্যে দ্রুত উন্নতি করা সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার উন্নয়নের প্রধান শর্ত হিসেবে ধরা হয় কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন। সিঙ্গাপুরে এই শিক্ষার হার ৬৫ শতাংশ ও মালয়েশিয়ায় ৪০ শতাংশ। বাংলাদেশে এই শিক্ষায় শিক্ষিতের হার সরকার ১৭ শতাংশ দাবি করলেও বাস্তবে তা কম।

জানা যায়, পদ্ধতিগত কারণেই বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষা বিমুখ। কারন অন্য দেশে একজন শিক্ষার্থীর প্রতিষ্ঠানই ঠিক করে দেয় সে কারিগরি শিক্ষায় যাবে কী না? কিন্তু বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ভিন্ন রকম। এতে কারিগরিতে শিক্ষার্থী বাড়ছে না। আর কারিগরি প্রতিষ্ঠানে ল্যাবরেটরীসহ ব্যবহারিকের সুযোগও কম। ফলে দক্ষতা ছাড়া কারিগরি শিক্ষা শেষ করে শিক্ষার্থীরা ভালো চাকরির সুযোগ পায় না। সূত্র: deshrupanto