দেশে কোন নির্বাচনী পরিবেশ নাই : জুঁই চাকমা

Views: 0

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি রাঙামাটি পার্বত্য জেলা কমিটি ও গণতন্ত্র মঞ্চের পক্ষ থেকে পার্টির অস্থায়ী কার্যালয় রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল এলাকায় ০৩ নভেম্বর—২০২৩ শুক্রবার বিকাল ৪টায় সংবাদিক সম্মেলন করেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি—২৯৯ আসন এ সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি রাঙামাটি পার্বত্য জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক বিপ্লবী নারী জুঁই চাকমা।

শুরুতে তিনি চলমান গণআন্দোলন চলাকালিন সরকারী দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসীদের হামলায় পুলিশ সদস্য আমিরুল ইসলাম পারভেজ, গাজীপুরে বেতন বাড়ানোর দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে পোশাকশ্রমিক মো. রাসেল হাওলাদার, খবর সংগ্রহ করার সময় সাংবাদিক রফিক ভুৃঁইয়া, মহাসমাবেশ ও যুগপৎ আন্দোলনের সারা দেশে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি চলাকালিন নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। এবং এঘটনায় তার পার্টি গভীরভাবে শোকাহত বলে জানান তিনি।

জুঁই চাকমা রাজধানীতে ২৮ অক্টোবর সন্মানীত প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের বাসভবনে দুর্বৃত্তদের হামলা, রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে হামলা, ভাঙচুর ও অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দেয়া, বিএনপির মহাসমাবেশ স্থলে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেয়া, রাজধানীতে গাড়িতে আগুন দেয়া ও সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করার সময় বিভিন্ন অনলাইন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি রাঙামাটি পার্বত্য জেলা কমিটি ও গণতন্ত্র মঞ্চে পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি সরকারের বাইরে এ ঘটনা নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষিদের গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

তিনি বলেন সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রিয় রাঙামাটিবাসী ও দেশবাসীকে আমরা জানাতে চাই দেশ এক গুরুত্বপূর্ণ ক্রান্তিকাল পার করছে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন বিরোধী গণআন্দোলন ইতিমধ্যে গণজাগরণে পরিনত হয়েছে। এই গণজাগরণ এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের রাস্তা তৈরী করেছে। কারণ এই সরকার আর দেশ চালাতে পারছেনা। তাদের ক্ষমতায় থাকার রাজনৈতিক ও নৈতিক বৈধতা না থাকায় দেশে এক ধরনের নৈরাজ্য দেখা দিয়েছে। ক্ষমতাকে তারা নজিরবিহীন লুটপাটের সুযোগ হিসাবে ব্যবহার করছে। গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকতে যেয়ে দেশ ও জনগণকে তারা বড় বিপদে ফেলে দিয়েছে। মানুষকে দেয়া ওয়াদা তারা রাখেনি। মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার তারা কেড়ে নিয়েছে; জীবন জীবিকাও গুরুতর হুমকির মুখে। সরকারের সাথে যোগসাজশে মুনাফাখোর বাজার সিন্ডিকেট সব লুটে নিচ্ছে। নির্মম নিষ্ঠুর শাসনের যাতাকলে সরকারি দলের নেতারা ছাড়া কেউই আর ভাল নেই। দেশকে তারা দেউলিয়া করে তুলছে। সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, বিক্ষোভ, অনাস্থা আর ঘৃণা চূড়ান্ত পর্যায়ে উঠেছে। দেশের মানুষ এই সরকারকে আর কোনভাবেই বরদাস্ত করতে পারছেনা। অবিলম্বে তারা এই সরকারের বিদায় দেখতে চায় দেশের জনগণ।

জুঁই চাকমা বলেন, আপনারা লক্ষ্য করেছেন যে, এই সরকার এখন ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মত আর একটা নীলনকশার তামাশার নির্বাচন করার পাঁয়তারা করছে। লক্ষ্য হচ্ছে তাদের অবৈধ ক্ষমতা আর দখলদারিত্বের পিছনে নির্বাচনের সিল লাগানো। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ আর নির্বাচন নির্বাচন খেলা হতে দেবেনা; দেশ ও জনগণের ভাগ্য নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতেও দেবেনা।
এই অবস্থায় দেশ, জনগণ ও দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আজ দেশের সকল বিরোধীদল সরকারকে বিদায় দিতে রাজপথে নেমে এসেছে। রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধানের গণতান্ত্রিক উত্তরণের ৩১ দফার ভিত্তিতে ১ দফার যুগপৎ আন্দোলন ইতিমধ্যে জনগণের বড় অংশকে ঐক্যবদ্ধ করেছে; জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের লক্ষ্যে আস্থা ও ভরসার যায়গা তৈরী করেছে। এবারকার এই আন্দোলন কেবল সরকার পরিবর্তনের নয়, এই আন্দোলন একইসাথে চরম অগণতান্ত্রিক ও নিপীড়নমূলক কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা পরিবর্তনেরও।

উসকানি, সহিংসতা চলমান অভূতপূর্ব এই গণআন্দোলন এখন পর্যন্ত সরকার ও সরকারি দলের শত বাধা, এড়িয়ে বিজয়ের পথে এগিয়ে চলেছে। সরকার ও সরকারি দলের মধ্যে ক্ষমতা হারানোর আতংক দেখা দিয়েছে। এই ভয় আর আতংক থেকেই তারা আন্দোলন দমনে গণগ্রেফতারসহ ধারাবাহিকভাবে সহিংসতা সৃষ্টি করছে। গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকতে যেয়ে দেশকে তারা ভয়ংকর সংঘাত — সংঘর্ষের পথে ঠেলে দিচ্ছে; দেশে এক অনাকাক্ষিত গৃহযুদ্ধের আশংকাও তারা বাড়িয়ে তুলছে। দেশের মানুষ এই অবস্থা মেনে নিতে পারেনা। বাইরের কেউ এসে আমাদেরকে মুক্তিও দেবেনা। নিজেদের অধিকার নিজেদেরকেই লড়াই করে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই লড়াইয়ে এবার দেশের মানুষকে জিততে হবে।

সরকার ও সরকারি দল বিএনপিসহ আন্দোলনরত বিরোধী দলসমূহের উপর নিপীড়নের মাত্রা বাডানোর নতুন ছক কষছে । গত ২৮ অক্টোবরের মত বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীর মধ্যে পরিকল্পিত নাশকতা ঘটানোর কথাও শোনা যাচ্ছে। বিরোধী দলসমূহের অবরোধ কর্মসূচীর মধ্যেই এসব নাশকতা সৃষ্টির আলামত দেখা যাচ্ছে। এসব অপতৎপরতার লক্ষ্য হচ্ছে বিরোধী দলসমূহের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক আন্দোলনকে নাশকতা হিসাবে তুলে ধরা এবং সরকার বিরোধীদের দমনে নতুন অজুহাত তৈরি করা।
দেশে কোন নির্বাচনী পরিবেশ নাই।

গণতন্ত্র মঞ্চের পক্ষ থেকে এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সতর্ক থেকে জনগণকে সম্পৃক্ত করে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনের কর্মসূচীসমূহ এগিয়ে নিতে আন্দোলনের নেতা কর্মী ও জনগণের প্রতি উদাত্ত আহবান জানানো হয়েছে। একইসাথে সরকার ও সরকারি দলের কোন উসকানিতে পা না দিতেও দেশবাসীর প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।

জুঁই চাকমা বলেন, আমরা রাঙামাটিসহ সারা দেশে বিএনপিসহ আন্দোলনরত বিরোধী দলসমূহের নেতা—কমীর্দের বিনাকারণে গ্রেফতার ও মিথ্যা মামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ করছি।
গত ২৯ অক্টোবর ঢাকার বিএনপির মহাসমাবেশ থেকে ফেরার সময় পুলিশ বাহিনী রাঙামাটি শহরের মানিকছড়ি এলাকায় বাস থেকে বিনা ওয়ারেন্টে যাদের আটক করা হয়েছে তাদেরসহ অবিলম্বে আন্দোলনরত বিরোধী দলসমূহের রাজবন্দীদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।
এ অবৈধ সরকারের সহযোগী পরিচয় পরিহার করে রাষ্টে্রর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিন এবং রাজপথের সৈনিকদের বাসায় বাসায় পুলিশ তল্লাশি চালানো গণআন্দোলনে রাজপথের রাজনৈতিক নেতা—কমীর্দের হয়রানি করা বন্ধ করার জন্য রাঙামাটি জেলার স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানান।

আগামী ৫—৬ নভেম্বর—২০২৩ রবিবার ও সোমবার (৪৮ ঘন্টা) সারা দেশে সর্বাত্মক অবরোধ সফল করার জন্য রাঙামাটি তথা দেশের গণতান্ত্রিক জনগণের প্রতি আহবান জানান কোদাল মার্কায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি—২৯৯ আসন এ সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জুঁই চাকমা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি রাঙামাটি পার্বত্য জেলা কমিটি সভাপতি আবুল হাসেম, সদর উপজেলা কমিটির অরুনজিতা চাকমা, পৌর কমিটির মেয়র পদপ্রার্থী মো. আব্দুল মান্নান রানা ও বাংলাদেশ ভুমিহীন সংহতির নারর্গিস আক্তার প্রমুখ।

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি

 

Zeen is a next generation WordPress theme. It’s powerful, beautifully designed and comes with everything you need to engage your visitors and increase conversions.

More Stories
কলার এতো গুণ, আগে জানতেন কী!