ভালো কাজে করার উপকারিতা

মানুষের জীবনের অর্জন তার ভালো কাজ। মহান আল্লাহ মানুষের ভালো কাজের হিসাব নেবেন। তাঁর সামনে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজন পরিশুদ্ধ মন। পরকালে এর প্রতিদানও অনেক বড় হবে। মানুষকে পরিপূর্ণতায় পৌঁছাতে হলে অবশ্যই তাকে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও আত্মসংযম হয়ে সংশোধন হতে হবে। অর্থাৎ আত্মার সংশোধন করার পর তিনি সফলতা লাভ করবেন।
ইসলামের বিধান পালন করার মাধ্যমে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও আত্ম-সংশোধন করা সর্বোত্তম। অর্থাৎ ইসলামিক বিধান বা হুকুম আহকাম পালন করলে আমরা পরিপূর্ণতা লাভ করব এবং আমাদের আত্মসংশোধন হবে। একজন আধ্যাত্মিক ব্যক্তি সে কোন পথে চলবে। তার কোন কাজগুলো প্রথমে করা প্রয়োজন এবং এরপর কোন কাজগুলো সম্পূর্ণ করা উচিত। যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি এই কাজ সম্পন্ন করার পদ্ধতি উপলব্ধি করতে না পারবেন ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের বর্ণিত বিধান সামনে থাকা সত্ত্বেও মান্য করা সহজ নয়।
অন্তরের অবস্থার উন্নয়নের জন্য অভ্যন্তরীণ বিষয়াদি পরিবর্তন করতে হবে। কলুষতা দূর করতে হবে এবং আত্মার ভেতরের অপবিত্রতাকে ধুয়েমুছে পরিষ্কার করতে হবে। আত্মার বিষ যেমন-গর্ববোধ করা, কৃপণতা, লোক দেখানো কাজকর্ম, হিংসা, গিবত, জেনা ইত্যাদি অর্থাৎ যে কাজগুলো আধ্যাত্মিক দিক থেকে উদ্ভব হয়, এসব কাজ বর্জন করা। আধ্যাত্মিক সমস্যাগুলো চাইলেই হঠাৎ পরিবর্তন করা যাবে না; এর জন্য প্রয়োজন অনুশীলন। আধ্যাত্মিকভাবে দুর্বল করা প্রতিটি বিষয়ের খোঁজ করতে হবে এবং তাৎক্ষণিক সেই বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যেত হবে এবং আপনাকে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে।
একজন মুসলিম অবশ্যই নিজেকে ভালো কাজে আত্মনিয়োগ করেন এবং মন্দ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রেখে আত্মনিয়ন্ত্রণ করেন। আমরা প্রায়ই সামান্য কথা নিয়ে একে অপরের সঙ্গে রাগ করে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হয়ে যাই। অথচ সামান্য রাগকে উপেক্ষা করে যদি নিজেদের সংযত করে রাখতে পারি তাহলে আমাদের অপেক্ষায় রয়েছে অসংখ্য নেয়ামত। আত্মনিয়ন্ত্রণের ফলে দুনিয়ার জীবনে যে প্রাপ্তিগুলো পাওয়া যায়, যেমন-
১. মানুষকে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে দেয়। নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয় যে চ্যালেঞ্জ সহজেই উত্তীর্ণ হওয়া যায়।
২. জীবনের ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। আত্মনিয়ন্ত্রণের ফলে সহজেই উপলব্ধি করা যায়, জীবনের সফলতা কোথায়।
৩. যেকোনো পরিস্থিতিতে শান্ত থেকে সমস্যা সমাধানে সহায়তা করার ক্ষমতা। একজন আত্মনিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তির মনমেজাজ সর্বদা ভালো থাকে।
৪. চিন্তার বৃহত্তর স্বচ্ছতা রাখতে সহায়তা করে।
৫. পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটায়। সামান্য কথা নিয়ে ঝগড়া, দরকষাকষি, হানাহানি, মারামারি, দ্বিধাদ্বন্দ্ব থেকে নিজেকে দূরে রাখা যায় ফলে অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছেদের পরিবর্তে সম্পর্ক আরও মধুর হয়।
৬. মনোনিবেশ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
৭. অতিরিক্ত চাপের মাঝে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে নিজের কাজ বিঘ্নিত হয় না। সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন করা যায়। মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হতে হয় না।
৮. আত্মসম্মান বজায় রেখে চলতে সাহায্য করে। এমন কোনো কাজে নিজেকে জড়িত করবে না, যে কাজে আত্মসম্মান লঙ্ঘন হয়। একজন ব্যক্তির সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য আত্মনিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ।