গাজীপুরে কোরবানির পশুর হাট জমে উঠেছে

আস্তে আস্তে জমে উঠছে পশুর হাট। গাজীপুর জেলার একটি সিটি করপোরেশন, তিনটি পৌরসভা ও পাঁচটি উপজেলায় পশুর হাট বসবে ১০১টি। চাহিদার তুলনায় পশুর সংখ্যা কম আছে ৭৫ হাজারের বেশি। চাহিদা পূরণে আশেপাশের জেলা সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছে প্রাণী সম্পদ বিভাগ।

তবে কোরবানির পশুর হাট নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনায় টঙ্গীতে আতঙ্ক বিরাজ করছে।মঙ্গলবার (১১ জুন) গাজীপুর জেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার ডা. নারগিস খানম পশুর হাট ও চাহিদার বিষয়ে  জানান, গাজীপুর জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা আছে এক লাখ ৮৭ হাজার ২০০টি। এরমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে এক লাখ ১১ হাজার ৬০২টি পশু। চাহিদার তুলনায় কম আছে ৭৫ হাজার ৫৯৮টি পশু।
গাজীপুর জেলার আশেপাশের জেলা থেকে চাহিদা পূরণ হবে বলে আশা করছে গাজীপুর জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগ।অনুসন্ধানে জানা যায়, গাজীপুর সদর, টঙ্গী, কালিয়াকৈর, শ্রীপুর, কাপাসিয়া, কালীগঞ্জ উপজেলা ও থানায় পশুর হাট বসতে শুরু করেছে। ৫০টির বেশি পশুর হাট ইতোমধ্যে বসে গেছে। বাকী হাটগুলো বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এসব হাটের মধ্যে বেশ কিছু হাট নিষেধ থাকলেও মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কের পাশেই বসার চেষ্টা করছে। সালনা পশুর হাট গাজীপুর সদরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পশুর হাট। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মধ্যে সবচেয়ে বড় পশুর হাট টঙ্গী।টঙ্গী-জয়দেবপুর আঞ্চলিক সড়কের ওপর টঙ্গীর বড় পশুর হাট বসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা কাজ করছে। এই হাট নিয়ে আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।
কাগজপত্র দেখাতে না পারলেও টঙ্গীর পশুর হাটের ইজারাদার দাবিদার মো. সাত্তার মোল্লা আনুষ্ঠানিকভাবে ৮ জুন পশুর হাট উদ্বোধন করেছেন। একই দিন সন্ধ্যায় প্রতিপক্ষ বিক্ষোভ মিছিল করেছে। সাত্তার মোল্লা গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়রের উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলমের অনুসারী ও প্রতিবাদী গ্রুপ গাজীপুর-২ আসনের সাংসদ জাহিদ আহসান রাসেলের অনুসারী।এদিকে গাজীপুর জেলায় মাইকিং করে পশুর হাট বসার খবর জানান দেওয়া হচ্ছে। রং বেরঙের পোস্টার তোরণ ও গেট করে পশুর হাটের প্রচারণা চলছে।গাজীপুলের সালনা এলাকার বাসিন্দা কামাল আহমেদ জানান, মহাসড়কে পশুর হাট বসলে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হয়। তাই সবাইকে এ বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত।

কালীগঞ্জের মুলগাওয়ের বাসিন্দা আ. মতিন কালের কণ্ঠকে বলেন, পশুর হাটে দুই পক্ষ থেকেই খাজনা বেশি নেওয়া হয়। এটা নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। কাপাসিয়ার আশরাফুল আলম বলেন, মানুষের হাতে টাকা নেই। যারা গরু কিনবে তাদের কাছ থেকে খাজনা কম নিলে ভালো হয়।

প্রহলাদপুর ইউনিয়নের লোহাগাছিয়া এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ইজারা আদায়ের বিষয়ে সজাগ থাকা উচিত। জাল টাকা যেন ছড়িয়ে না পড়ে তা দেখভাল করা দরকার।

গাজীপুর জেলায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে কোরবানির পশুর হাট পরিচালনা করার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন এরমধ্যে সকল ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছে। জাল টাকা প্রতিরোধ, এক হাটের পশু অন্য হাটে নেওয়া, চুরি, ছিনতাই ও টাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানা এলাকার একমাত্র পশুবাজার পূবাইল বাজার কোরবানির হাট বেশ জমে উঠেছে।

নগরীর ৪১নং ওয়ার্ডের পূবাইল বাজারে মঙ্গলবার ও আগামী শনিবার-রবিবার এই হাটে কোরবানির পশু কেনা-বেচা চলবে বলে জানিয়েছেন অস্থায়ী বাজার পরিচালনা বোর্ডের কর্মকর্তারা।

অস্থায়ী বাজার পরিচালনা বোর্ডের কর্মকর্তা মনজুর হোসেন জানান, গরু বেপারী ও ক্রেতা বিক্রেতাদের নিরাপত্তা ও সুবিধার কথা মাথায় রেখে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে কোরবানির পশুতে মাঠ ভরে যাবে। আগের চেয়ে ক্রেতার উপস্থিতি অনেকাংশে বাড়বে আশা করছি। তবে একটি মহল এত সুন্দর আয়োজনকে বানচাল ও বিভিন্নভাবে ক্ষতি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ক্রেতাদের চাহিদার কথা লক্ষ্য রেখে এবার আগামী শনিবার হাটের এবং পরদিন রবিবার হাট থাকবে।

জানা যায়, প্রতি বছর পূবাইল বাজারের এই হাটে আশেপাশের প্রায় ৫০- ৬০টি গ্রাম থেকে স্থানীয় খামারি ও কৃষকদের পালিত গরু-ছাগলের মহাসমারোহে মাঠ ভরে যায়। জমে উঠে কোরবানির ঈদের আমেজ। তাছাড়া পূবাইল মেট্রোপলিটন থানার ৪টি ওয়ার্ডে ও পার্শ্ববর্তী প্রায় ৫০টি গ্রামের মধ্যে একমাত্র কোরবানির পশুর হাট হওয়ায় এখানে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

কোরবানির পশু ক্রেতা একই এলাকার সেলিম মিয়া জানান, এই গরু ছাগলের হাট পূবাইলের খুবই ঐতিহ্যবাহী হাট। হাজার হাজার ক্রেতা বিক্রেতার ভিড়ে ঈদের আগেই ঈদের আনন্দটা অনেকাংশে বেড়ে যায়।

ছোট কয়েরের আবুল খায়ের জানান, পূবাইল বাজারে অনেক গরু বিক্রি করি। আবার আমার আত্মীয়-স্বজনরা এখান থেকে গরু ক্রয় করে।

বড় কয়েরের শাখাওয়াত জানান, পূবাইল বাজার কোরবানির পশুর হাটে তুলনামূলকভাবে একটু কম দামে কিনতে পারি।

স্থানীয় কাউন্সিলর আমজাদ হোসেন মোল্লা বলেন, আমার ৪১নং ওয়ার্ডে একমাত্র কোরবানির পশুর হাট পূবাইল বাজার। এই ঈদে ক্রেতা বিক্রেতাদের প্রত্যাশা পূরণে ভূমিকা রাখবে এটাই আশা করছি। আর সবার সাহায্য ও সহযোগিতা কামনা করছি। সূত্র: কালের কণ্ঠ