‘নগদবিহীন’ লেনদেনের শর্তে কর অব্যাহতি পাচ্ছে আইসিটির ১৯ উপখাত

‘ক্যাশলেস’ লেনদেনের শর্তে কর অব্যাহতি পাচ্ছে আইসিটির ১৯ উপখাত

জাতীয় সংসদে ৫৩তম বাজেট পেশ করেছেন নতুন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে এই বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। এর আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদন হয় এবং পরে ওই প্রস্তাবে সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

প্রস্তাবিত বাজেটে ক্যাশলেস বা নগদবিহীন লেনদেনের শর্তে আরও তিন বছর কর অব্যাহতির সুবিধা পাচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের ১৯টি উপখাত। প্রস্তাবিত বাজেটে আইসিটি খাতের জন্য এই ছাড় দেওয়া হয়েছে।

কর অব্যাহতির সুবিধা পাওয়া উপখাতগুলো হলো— এআই বেজড সল্যুশন ডেভেলপমেন্ট, ব্লকচেইন বেজড সল্যুশন ডেভেলপমেন্ট, রোবোটিক্স প্রসেস আউটসোর্সিং, সফটওয়্যার-অ্যাজ-আ-সার্ভিস, সাইবার সিকিউরিটি সার্ভিস, ডিজিটাল ডেটা অ্যানালিটিক্স ও ডেটা সায়েন্স, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও কাস্টমাইজেশন, সফটওয়্যার টেস্ট ল্যাব সার্ভিস, ওয়েব লিস্টিং, ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট ও সার্ভিস, আইটি সহায়তা ও সফটওয়্যার মেইনটেন্যান্স সার্ভিস, জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিস, ডিজিটাল অ্যানিমেশন ডেভেলপমেন্ট ডিজিটাল গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডিজিটাল ডেটা এন্ট্রি ও প্রসেসিং, ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ও ই-পাব্লিকেশন, আইসিটি ফ্রিল্যান্সিং, কল সেন্টার সার্ভিস এবং ডকুমেন্ট কনভারশন, ইমেজিং ও ডিজিটাল আর্কাইভিং।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কর অব্যাহতির তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্ট (এআই), ব্লকচেইন, রোবটিক্স, সফটওয়্যার অ্যাজ অ্যা সার্ভিস (স্যাস) ও ডেটা সাইয়েন্স। আর কর অব্যাহতির সুবিধা থেকে বাদ পড়েছে ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন), সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন ও ক্লাউড সার্ভিস। বর্তমানে আইসিটি খাতের ২৭টি উপখাত কর অব্যাহতির সুবিধা পেয়ে আসছে। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে শুধু ১৯ খাতে এই সুবিধা থাকছে।

নানা সংকটের মধ্যেও ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখছেন নতুন অর্থমন্ত্রী। এজন্য তার বাজেট প্রতিপাদ্য ‘সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অঙ্গীকার’।

এ বাজেট দেশের ৫৩তম, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের ২৫তম এবং অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর প্রথম বাজেট। এটি চলতি (২০২৩-২৪) সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি। এবার ব্যয় বাড়ছে ৮২ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা। বড় অঙ্কের ব্যয় মেটাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ৪ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। এটি অর্জন করতে চলতি সংশোধিত রাজস্ব থেকে ৬৬ হাজার কোটি টাকা বেশি আহরণ করতে হবে, যা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকছে ৫ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা। বাকি ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা থাকবে। ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ইতোমধ্যে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সাত শতাংশের বেশি নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং আগামী অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা ছয় দশমিক ৭৫ শতাংশ হতে পারে।