তিলোত্তমা কোলকাতা – বিনিতা দত্ত

তিলোত্তমা কোলকাতা
কবি:- বিনিতা দত্ত
তোমায় কি করে ভুলি
সেই ফেলে আসা দিনগুলি ?
ভুলিনি কিছুই তুমি যে কত সুন্দরী।
তোমার সাথে সম্পর্ক কি আজকের ?
প্রতিটা মুহূর্ত কেটেছে উত্তেজনা আর উদ্দীপনার সাথে ।
ওগো তিলোত্তমা তোমার যে এক্স ফ্যাক্টর আছে
সেটা অনেকেরই নেই বুঝেছো গো সুন্দরী ।
হ্যাঁ তোমাকে বিশ্বসুন্দরী করার জন্য অনেক কাটাছেঁড়া হচ্ছে
বৈকি কিন্তু তবুও তুমি জয়ী ।
বহু পথ অতিক্রম করলাম তোমার সাথে
আর সঞ্চয় করেছি অনেক অভিজ্ঞতা।
মনে পড়ে অনেক কিছু যা হারিয়ে গেছে কালের সাথে সাথে।
উত্তর কোলকাতার বুকে কেটেছে অনেকগুলি বছর।
ভোর হোতো পথগুলি জল দিয়ে ধুয়ে ।
ছাদে উঠে দেখতাম হাওড়া ব্রিজকে সূর্যের আলোয় দূর থেকে ।
বেরিয়ে পড়তাম থলে করে দুধের বোতল নিয়ে হরিণ ঘাটার দুধের বুথে।
খালি বোতল জমা দিয়ে ভর্তি বোতল ঘরে আনা ।
ট্রামলাইনে ঘন্টা বাজিয়ে পাশ দিয়ে
ট্রামগুলি মন্থর গতিতে আসা যাওয়া করতো ।
হলুদ কালোয় ট্যাক্সি গুলো যাত্রী নিয়ে সাঁই সাঁই ছুটতো তাদের গন্তব্যে।
হাতিবাগানের একটা স্পেশাল চাৰ্ম ।
সারাদিন প্রাণচঞ্চল।
বিকেল হলে তো কথাই নেই মালঞ্চর কবিরাজী কাটলেট মুহূর্তে শেষ।
হাজারো রকম দোকান বিশেষ করে ফুটপাতে।
লোকে লোকারণ্য।
পর পর সারিবদ্ধ সিনেমা হল।
এছাড়া বিখ্যাত থিয়েটার হল যে গুলো সব এখন প্রায় বিলুপ্ত ।
তিলোত্তমার ভিকটোরিয়া আর গরেরমাঠ আলো আঁধারে কী তার মাধুর্য।
রেড রোডের গা ঘেঁষে আবছা আলোয় প্রিয় মানুষের হাত ধরে হাঁটা
এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি যা এক মাত্র এই কোলকাতারই অবদান ।
চিতপুরে রয়েলের বিরিয়ানী এখনো লেগে আছে জিভে।
আমিনার স্পেশাল , অনাদির মোগলাই আর
রালিসের কুলপি এখনও যেন পাই তার স্বাদ।
উত্তর কোলকাতায় আরেকটি বিখ্যাত খাবার ছিলো
সন্ধ্যে হলেই মাথায় করে লাল কাপড়ে মোড়া কুলপির
বড় মাটির হাঁড়ি নিয়ে এক অদ্ভুত সুরে হাঁকতে হাঁকতে যেতো ।
লোহার চোঙায় জমানো কুলপি শাল পাতায় বার করে দিতো।
ভুলিনি গো কিছুই।
আরেকটি অদ্ভুত যান বাহন চেপেছি বহুবার হাতে টানা রিকশা।
ঘণ্টা বাজিয়ে যাত্রী বসিয়ে এ গলি সে গলি দিয়ে কেমন ছুটে যেতো ।
এগুলো সব এখন এ্যনটিক্সের পর্যায় ।
তিলোত্তমার বুকে কী নেই?
সেকালের তিলোত্তমাকে নতুন রূপে সাজাতে গিয়ে
অনেক ভাঙচুর কাটাছেঁড়া চলছে কালের নিয়মে
তবুও বলবো তুমি কত সুন্দর তোমার ইতিহাস রচনা
নব নব রূপে হোক তবে নিজস্বতায়, লন্ডনের আদলে নয় ।
হোক রচনা সংগীত ,
হোক রচনা কাব্য ,
হোক রচনা চৌরঙ্গী ।
তুমি রোমান্সের শহর ,
চঞ্চল ,চির সুন্দরী।
রাজনীতি থেকে ইডেন ,
রবীন্দ্র সদন থেকে রবিন্দ্রসরোবর,
সবখানেই প্রাণবন্ত তুমি।
তাইতো তোমায় এতো ভালোবাসি ।