নাকের পলিপাস সঠিক চিকিৎসায় সম্পূর্ণ ভালো হতে পারে।

Views: 58

পলিপাস কি?
মানবদেহের রক্তের ইসনোফিল ও সিরাম আইজিই এর পরিমাণ বেড়ে গেলে ঠান্ডা, সর্দি, হাঁচি লেগে থাকে এবং নাকের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়ে থাকে যা শ্লৈষ্মিক ঝিল্লিগুলোতে অ্যালার্জি প্রদাহ সৃষ্টি করে। এক ধরনের মাংসপিন্ড ধিরে ধিরে বাড়তে থাকে । প্রথমে এটি আকারে ছোটো থাকে এবং মটরশুটির মতো দেখা যায় । পরবর্তীতে এটি আকারে বড় হয়ে নাকের ছিদ্র বন্ধ করে দেয় । কখনো কখনো নাক থেকে রক্তক্ষরণও হয়ে থাকে ।
পলিপাসের প্রকারভেদঃ
নাকের পলিপাস দুই ধরনের হয়ে থাকে । যথাঃ ১) ইথময়ডাল পলিপাস যা এলার্জির কারণে দুই নাকে দেখা দেয়।
২) এন্ট্রোকোয়ানাল পলিপাস যা ইনফেকশনের কারণে এক নাকে হতে দেখা যায়।
পলিপাস এর কারনঃ
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অ্যালার্জি জনিত এবং দীর্ঘমেয়াদী নাক ও সাইনাসের প্রদাহ বা ক্ষত পলিপাস এর প্রধান কারন । কারো কারো ঋতু পরিবর্তনের কারনে অ্যালার্জির কারনে পলিপাস হয় ।  অনেক সময় বংশগত কারনে পলিপাস হয়ে থাকে ।
পলিপাস এর লক্ষনঃ
পলিপাস এর বিভিন্ন লক্ষন রয়েছে । যেমনঃ একনাগাড়ে হাঁচি , নাক দিয়ে পানি পড়া , নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম , নাক এবং তালু চুলকানো , নাকে ব্যাথা , মাথা ব্যাথা , জ্বর জ্বর অনুভূতি, খাবারে অরুচি, ঘুমের সময় নাক ডাকা, শরীর শুকিয়ে যাওয়া ও কখনো নাকের মাংস বাইরে বের হয়ে যাওয়া ইত্যাদি ।

নাকের পলিপাসের রোগ নির্ণয়ঃ

নাকের পলিপ নিম্নলিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা সম্ভব:

  • এন্ডোস্কোপি– এই পরীক্ষায় ডাক্তার একটি সরু নলে হাল্কা ম্যাগনিফাইং লেন্স অথবা মাইক্রো ক্যামেরার মাধ্যমে নাক এবং সাইনাসকে পরীক্ষা করবেন।
  • অ্যালার্জি টেস্ট – ত্বকের পরীক্ষা যাতে একটানা প্রদাহ হবার মত বিষয়গুলিকে চিহ্নিত করা যায়।
  • ভিটামিন ডি এর মাত্রার পরীক্ষা– রক্তের নমুনার পরীক্ষা করা হয় যাতে দেহে ভিতামিন ডি- এর মাত্রা নির্ধারণ করা যায়।
  • সিস্টিক ফাইব্রোসিস পরীক্ষা– যে গ্রন্থিগুলি শ্লেষ্মা, ঘাম, অশ্রু এবং পাচক রস উৎপন্ন করে, সেগুলিকে সিস্টিক ফাইব্রোসিস ক্ষতিগ্রস্ত করে।
  • সিটি স্ক্যানের মত ইমেজিং স্টাডি- এর মাধ্যমে ডাক্তার আপনার সাইনাসের অনেক গভীরে পলিপের যথার্থ অবস্থান ও আকার বুঝতে পারেন। এটি ফেলা অথবা অস্বস্তির তীব্রতাকে বিশ্লেষণ করতে সাহায্য করে। ইমেজিং স্টাডির মাধ্যমে ডাক্তার নাকের অন্য কোন প্রকোষ্ঠে ব্লকেজ আছে কিনা তা শনাক্ত করতে পারেন, যেমন গঠনগত অস্বাভাবিকতা আছে নাকি এবং কোন ক্যান্সার যুক্ত অথবা ক্যান্সার যুক্ত নেই এরকম কোন অংশ বেড়ে উঠেছে কিনা।

যদি আপনার নাকের পলিপাস থেকে থাকে তবে কী কী প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে

যদি আপনি নাকের পল্পকে তীব্রতর রূপ ধারণ করার আগেই একে কমানোর জন্য প্রতিরোধমূলক কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, তবে বেশী ভালো হয়।:

  • অ্যালার্জি ও অ্যাজমাকে নিয়ন্ত্রণ করুন- যদি আপনি আপনার উপসর্গগুলিকে নিয়ন্ত্রণ না করতে পারেন, তবে আপনার অবশ্যই নিজের ডাক্তারকে অনুরোধ করা উচিৎ যে তিনি যেন বর্তমান চিকিৎসার পরিবর্তে অন্য কোনো চিকিৎসার সুপারিশ করেন।
  • ভাল স্বাস্থ্য বজায় রাখা- আপনার নিজের হাতকে ভালোভাবে ধোয়া উচিত কারণ এটি আপনার হাত থেকে ব্যাকটেরিয়া অথবা ভাইরাসকে দূর করতে সবচেয়ে ভালো কাজ করে। যখন আপনি আপনার নাককে স্পর্শ করেন, তখন এটি নাসাপথ অথবা সাইনাস এর মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া ভাইরাসকে সঞ্চারিত হতে বাধা দেয়।
  • নাককে যা কিছু উত্যক্ত করে তা এড়িয়ে যান- তামাক ধূমপান, ধুলো, রাসায়নিক ধোঁয়া এবং সূক্ষ্ম ধ্বংসাবশেষগুলি আপনাক অথবা সাইনাসের ফোলা বা অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
  • একটি নাক মোছার স্প্রে ব্যবহার করুন- আপনার নাসাপথকে পরিষ্কার করার জন্য আপনার একটি নুন জলের স্প্রে অথবা ন্যাসাল ওয়াশ ঘনঘন ব্যবহার করা উচিত। এটি আপনার শ্লেষ্মার প্রবাহকে আরও ভালো করবে এবং সমস্ত অ্যালার্জেন এবং অস্বস্তি সৃষ্টিকারী পদার্থগুলিকে ধুয়ে দেবে।
  • আপনার বাড়িকে উষ্ণ এবং আর্দ্র রাখুন-  একটি হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করে আপনি আপনার ঘরকে উষ্ণ রাখতে পারেন, যার ফলে আপনার শ্বাসনালীগুলি আর্দ্র থাকবে। এটি আপনার সাইনাসের শ্লেষ্মা প্রবাহকে আরও ভালো করতে সাহায্য করে এবং প্রদাহ ও ব্লকেজকে অপসারণ করে। হিউমিডিফায়ারে ব্যাকটেরিয়া এবং জীবাণুর উৎপত্তি  যাতে না হয়, তার জন্য কখনোই হিউমিডিফায়ারকে পরিষ্কার করতে ভুলবেন না।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs):

  1. নাকের পলিপাস কি বিপজ্জনক?

নাকের পলিপাস বিপজ্জনক। যদি এর অবস্থা মৃদু হয়ে থাকে, তবে এটিকে ওষুধ দিয়ে সারানো যেতে পারে। যদি তীব্র হয়ে থাকে, তবে নাকের ব্লকেজ সরানোর জন্য সার্জারির সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

  1. নাকের পলিপাস কি একেবারে ছেড়ে যেতে পারে?

চিকিৎসার মাধ্যমে নাকের পলিপাস একেবারে সেরে যেতে পারে। যদি ওষুধ বা সার্জারি দ্বারা চিকিৎসা করা হয়, তবে নাকের পলিপাসগুলি শুকিয়ে যেতে পারে।

  1. নাকের পলিপাস কি আবার গজাতে পারে?

অ্যালার্জেনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংস্পর্শ এবং দীর্ঘ সময় ধরে সংক্রমণের সাথে সংস্পর্শে থাকার ফলে কখনো কখনো নাকের পলিপাস আবার বেড়ে উঠতে পারে। এই নাকের পলিপাসগুলির পুনরায় বেড়ে ওঠার পিছনে কোন নির্দিষ্ট কারণ নেই।

  1. নাকের পলিপাসের হাত থেকে চিরস্থায়ীভাবে কী করে উদ্ধার পাওয়া যায়?

নাকের পলিপের হাত থেকে চিরস্থায়ীভাবে উদ্ধার পেতে গেলে অথবা একটি এটিকে প্রতিরোধ করতে হলে আপনাকে অবশ্যই বেশ কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা মেনে চলতে হবে। যেমন যদি যদি আপনার ফুলের রেণু, ছত্রাক ইত্যাদির প্রতি অ্যালার্জি থেকে থাকে, তবে এদের সংস্পর্শে আসা বন্ধ করতে হবে।

স্বাস্থ্যসেবায় স্বীকৃত চিকিৎসা পদ্ধতিঃ

বাংলাদেশ সরকার স্বীকৃত ও জাতীয় স্বাস্থ্যনীতিতে অন্তর্ভুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি চারটি। এগুলো হলো অ্যালোপ্যাথিক, ইউনানি, আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা। অ্যালোপ্যাথিক ছাড়া বাকি তিনটিকে বলা হয় বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি বা অল্টারনেটিভ মেডিকেল কেয়ার (এএমসি)। ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক শত শত বছরের প্রাচীন ও আদি চিকিৎসা পদ্ধতি।

নাকের পলিপাসের এলোপ্যাথিক চিকিৎসাঃ
পলিপাসের এলোপ্যাথিক চিকিৎসা সাধারনত অপারেশন । তবে অপারেশন করলেই যে ভালো হয়ে যাবে এমন নয়। অ্যালার্জি থেকে দূরে থাকতে পারলে এই রোগ নিয়ন্ত্রনে রাখা সম্ভব । ঠান্ডা লাগা ও ধুলাবালি থেকে দূরে থাকতে হবে। যদি কম থাকে, তবে নাকের পলিপাসকে ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা যায়। যদি এটি বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে যায়, তবে সার্জারি করার সুপারিশ করা হয়।

নাকের পলিপাসের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাঃ

হোমিওপ্যাথি রেজিঃ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন করলে কোন প্রকার অপারেশন ছাড়াই নাকের পলিপাস ও সাইনোসাইটিস থেকে আরোগ্য লাভ করা সম্ভব।

নাকের পলিপাসের ইউনানী চিকিৎসাঃ

নাকের পলিপাস বিনা অপারেশনে কোন রকম কাটা-ছেঁড়া ছাড়া ও এসিডমুক্ত ইউনানী চিকিৎসায় সম্পূর্ণ ভালো হয়। যেকোন বয়সের মানুষ পলিপাসের চিকিৎসা গ্রহন করতে পারবেন। অত্যন্ত সফলতার সাথে সঠিকভাবে নাকের পলিপাসের চিকিৎসা করতে যোগাযোগ করুন-

এছাড়াও যে সকল চিকিৎসা সেবা পাবেন:-
# ডায়াবেটিস (যারা মাসের পর মাস ইনসুলিন নিয়ে যাচ্ছেন), নাকের পলিপাস, শ্বাস-কষ্ট, হাঁপানি, স্বাস্থ্যহীনতা, যৌন রোগ, এলার্জি, যে কোন ধরনের চর্ম রোগ, মানসিক প্রতিবন্ধী, মাথা নষ্ট পাগল, হৃদ রোগ, হাই প্রেসার, মানসিক অস্থিরতা, জন্ডিস, লিভার সিরোসিস, ভাইরাল হেপাটাইটিস, লিভার ক্যান্সার, যে কোন ধরনের ক্যান্সার (অপারেশন করেও যারা পরিপূর্ণ শারীরিক সুস্থতা পাচ্ছেন না)
# অনিয়মিত মাসিক, সাদা স্রাব, জরায়ুর সমস্যা, বিবাহিত জীবনে অনেক বছর হয়ে গেছে কিন্তু বাচ্চা হচ্ছে না
# জটিল কঠিন ও পুরাতন রোগের চিকিৎসা সহ সকল সমস্যার জন্য সু-পরামর্শ দেওয়া হয়

নিকস্টেপস হেল্থকেয়ার

প্রধান কার্যালয় : লতাপাতা প্লাজা (২য় তলা), লতাপাতা বাজার, কাপাসিয়া, গাজীপুর – ১৭৩০
মোবাইল: ০১৭১১১১৩৮৫২, ০১৯১০১১২৯৮৩, ০১৯১১১৮৭২৭৬, ০১৭৬৭৮৪৬৪০৯

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Zeen is a next generation WordPress theme. It’s powerful, beautifully designed and comes with everything you need to engage your visitors and increase conversions.

More Stories
মৌলভীবাজারের কামাল পুরে দুটি বাড়ি লকডাউন