সেই সুযোগটাকে আমরা কাজে লাগাচ্ছি না কেন?

মতামত

০১

আমরা কি আসলে বেশ কিছু সুযোগ হারাচ্ছি? এমন দুঃসময়ে সুযোগ ও হারানো দুটো শব্দই তো বেশ জরুরি এবং এই প্রশ্নটাকে তুচ্ছ ভাবলেও তো আরও কতগুলো সুযোগ হারিয়ে যেতে পারে। আমাদের আসল সম্পদটা কী? জীবন? এটাই তো সাধারণ প্রশ্নের সাধারণ উত্তর। বেঁচে থাকা জীবনের অনিশ্চয়তা, হুমকি ও সম্ভাবনা বিষয়ে নিজেদের সাধারণ জ্ঞানটুকু কাজে লাগানোর সুযোগ কি আমরা হারাচ্ছি? এই বিপুল জনসংখ্যার দেশে এক শ মাথায় চার শ চিন্তা থাকবে এটাই স্বাভাবিক! তার ওপর আবার দুঃসময়। গুজব, অনুমান, দুর্বল সমাজব্যবস্থা, অশিক্ষা, কুশিক্ষা, অতি তথ্য, ভুল তথ্য সব মিলিয়ে একটা খিচুড়ি পরিস্থিতি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে এটাও ঠিক। প্রশ্ন হচ্ছে সেটা নিয়ে আমরা কী করছি? সমস্যা মানেই তো সমাধানের সুযোগ। সেই সুযোগটা কি আমরা কাজে লাগাচ্ছি?

বিপদ বলেকয়ে আসে না, জেনেও নানান পরিস্থিতির প্রভাবে গুচ্ছ গুচ্ছ মানুষ সেদিকেই পা বাড়াবে এটাও ঠিক। কিন্তু সেটা দেখেও না দেখাটা আরও কতটা সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে এবং সেই সর্বনাশটা কার? এটা বুঝে সবাইকে সাধারণ জ্ঞান কাজে লাগাতে উৎসাহ জোগাবে কে বা কারা?

০২

মানি বা না মানি, আমরা কমবেশি সবাই জানি, এ দেশের কিছু মানুষের মানসিকতাই একটা বড় চ্যালেঞ্জ। মানসিকতা ইতিবাচক না থাকলে কখনোই বিবেচনাবোধ আমলে আসবে না। এই মানসিকতা মেরামতের মূল সময় হতে পারত এই সংকটকাল। অনেক সময় খুব সহজ সাধারণ বিষয়ও বোঝাতে যে বেগ পেতে হয়, এই সময়টাকে ব্যবহার করা যেতে পারে সেই বোঝাপড়াকে শক্ত করতে। যে দেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুর ডাকে নয় মাসে দেশ স্বাধীন করার মতো কঠিন কাজ করে ফেলতে পারে, তাদের শৃঙ্খলার অনুপ্রাণিত করে দুঃসময় সামাল দেওয়ার উদ্যোগ কি নেওয়া হচ্ছে? এমন উদাহরণ তৈরি করতে পারলে সেটাই হতো আগামী প্রজন্মের জন্য স্পৃহার কারণ। সেটা করতে হলে দরকার কেন্দ্র থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও ব্যবস্থাপনা। পৃথিবীর যেসব দেশ সামাল দেওয়ার বুদ্ধিদীপ্ত আগাম ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব দেবে, তারাই এগিয়ে যাবে। ইতিমধ্যে এমন উদাহরণও তৈরি হয়েছে। জনশক্তিকে বোঝা না ভেবে সম্পদে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া কি এই দুঃসময়েই শুরু হতে পারে না। যত ব্যক্তিগত চর্চা, অতীতের ভুলত্রুটি, অন্তত মৃত্যুভয়কে সামনে রেখে সংশোধনের প্রক্রিয়া জাতীয় পর্যায়ে শুরু করতে বাধাটা কোথায়?

ক্ষমতায় থাকলে দেশের জনগণের দায়িত্ব নিতে হবে, এটাই স্বাভাবিক। সংকটকালে দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রধানতম কাজ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া। সেই সময়ে জাতীয় উৎসাহের কেন্দ্রবিন্দু তৈরি করাটা জরুরি কাজ। যেন সেটা অধিকাংশ মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য এবং গ্রহণযোগ্য হয়। যেন অস্থির জনগণ নিজ থেকেই স্থির–শান্ত হতে উদ্বুদ্ধ হয়ে ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে সহযোগী ভূমিকা রাখতে পারে। এমন দুঃসময়ে কৃতিত্ব বা কর্মকাণ্ড প্রচারণা কতটা জরুরি? সময়ই বলে দেবে আমরা সফল নাকি ব্যর্থ!

০৩

এই সময়ের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন কী? আমাদের দিনগুলো কি আবার আগের মতো হবে? নাকি সবকিছু পাল্টে গিয়ে একটা ভিন্ন পৃথিবীর দিকে এগোব আমরা? মানুষ কি পাল্টে যাবে? যাঁরা এই প্রশ্নগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্লেষণ করে, ভেবে, আলোচনা করে, বুঝে ঠিক সিদ্ধান্তগুলো নেবেন, তাঁরাই আসলে এগিয়ে গিয়ে নিজেকে এবং চারপাশকে কিছু দিতে পারবেন ভবিষ্যতে। এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো কী? স্বাস্থ্য, খাদ্য, অর্থ! আর বাকি সবকিছুই তো এদের সঙ্গে সম্পর্কিত। সুতরাং আপাতত শুধু এই তিন বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া নির্মাণের চিন্তা শুরু করে, সেখানে যদি স্বেচ্ছাশ্রমে আগ্রহী বিভিন্ন ক্ষেত্রে আগ্রহী মেধাবীদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়, তাহলে অন্তত একটা অংশগ্রহণমূলক ডিসকোর্সের সারমর্ম পেতে পারি আমরা। সেটা যদি বাস্তবায়ন উপযোগী হয়, তবে তা নিশ্চিতভাবে জাতীয় ক্ষেত্র থেকে ব্যক্তিগত পর্যায় পর্যন্ত প্রভাবিত করবে। কিন্তু এই উদ্যোগ নেবে কে?

যদি জাতীয়ভাবে উদ্‌যাপনের বিপুল সদস্যসংখ্যার কমিটি হতে পারে, তাহলে এই সময়টাকে সামাল দেওয়ার জন্য আগ্রহীদের নিয়ে জাতীয় এবং আঞ্চলিকভাবে কমিটি গঠন করতে বাধা কোথায়? রাজনীতি, ব্যবসা, সরকারি কর্মচারীর বাইরেও তো এমন অনেকে আছে, যারা এই দুঃসময়ে দেশের মানুষের কাজে লাগতে পারে। আমি নিশ্চিত এমন অনেকে আছেন, যথার্থ সুযোগের অভাবে হয়তো খুচরা জনসেবায় নিজেকে সম্পৃক্ত করে সান্ত্বনা খুঁজছেন। তাঁদের সংযুক্ত দেশের ডিজিটাল শক্তিকে কাজে লাগিয়ে অন্তত দেশব্যাপী আগ্রহীদের ডেটাবেইস তৈরি হতে পারে। একক কৃতিত্ব অর্জনের মানসিকতা থেকে বরং এই সময়টাকে জাতীয় সংকট সমাধানের ব্যবস্থাপনার উদাহরণ হিসেবে দাঁড় করাতে পারলে সেটাই একসময় অমলিন ইতিহাস হয়ে থাকবে। সমাধান ও সফলতাকে সামগ্রিক কৃতিত্ব হিসেবে প্রচার করতে পারলে জনগণ তো আরও বেশি উদ্দীপ্ত ও সম্পৃক্ত হবে।

০৪

কোভিড-১৯–এর আগমনকে অনেকেই বলেছেন পৃথিবীর মানুষের জন্য এটা শুদ্ধ হওয়ার পরীক্ষা। অনেকে অতীতের উদাহরণ টেনেছেন প্রতি শতাব্দী শেষে বা শুরুতে এমন মহামারির যোগসূত্র ধরে। প্রশ্ন হচ্ছে তা থেকে আমরা শিক্ষা নেব কি নেব না? মানবিকতা বা আদর্শের সংকট নিয়ে অতৃপ্তিতে অনেক আলোচনাই চলছিল বহু বহুদিন। তাহলে ধর্মীয় এবং সামাজিক নেতাদের জন্য এটা একটা চমৎকার সুযোগ মানুষকে আদর্শের দিকে, ভালোর দিকে উদ্বুদ্ধ করার। অন্তত চেষ্টার পরিকল্পনা তো শুরু হতে পারে। মূল সংকট যা নিয়ে, স্বাস্থ্য, খাদ্য, অর্থ বিষয়ে যদি একটা আদর্শিক অবস্থান স্থির করে প্রকৃত উপায়ে প্রচার করে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেওয়া হয়, তাহলে তাতে দেশের জনগণ প্রভাবিত হবে না কেন?

আমি পেশাজীবী হিসেবে কয়েকটা ক্ষেত্রে কাজ করে এবং আমার নিজের অবস্থানের অবলোকন থেকে কিছু বিষয় বলতেই পারি। অবশ্যই আমাদের জাতীয় বিষয়ে সম্মিলিত আগ্রহ বা কমন ইন্টারেস্টের জায়গাটা বড় দুর্বল। একটা দুর্বল বিশ্বাসের সান্ত্বনায় আমরা কোনোভাবে দাঁড়িয়ে আছি। যে কারণে হয়তো অনেককেই বলতে শুনছি, একমাত্র সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহে এবার টিকে যাব আমরা, না হলে কোথায় চলে যেত এত দিন। যে দেশে সৎভাবে বাঁচার চেষ্টা করাটাই যেন অপরাধ। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা ইচ্ছেমতো গ্রাহকদের সারা জীবনের জমানো টাকা পাচার করে দিব্যি বিদেশে চলে যায়। যেখানে ন্যায়-অন্যায় বোধের কোনো তফাত খুঁজে পায় না পরবর্তী প্রজন্ম শুধু দুর্বল শিক্ষাব্যবস্থা এবং ছাত্ররাজনীতির চালচলন দেখে। এমনকি হতে পারত না এই দুঃসময়কে উপলক্ষ করে এমন এক কেন্দ্রীয় ডাক, যা শুনে একটা অনুপ্রেরণার ধারা শুরু হবে। যা দিয়ে আদর্শচর্চার গুরুত্ব, আদর্শ ও ধর্মচর্চার সম্পর্ক, নিজস্ব অর্থের যথার্থ ব্যবস্থাপনা, আন্ত-প্রজন্ম কথোপকথন, পারস্পরিক সামাজিক শিক্ষা এসব বিষয়ে ক্রমে আগ্রহী হতে শুরু করবে দেশবাসী। যা থেকে আমরা মানসিক দূরত্ব কাটিয়ে বরং দুঃসময়ে যার যার নিজ ভূমিকা নিয়ে সচেতন হব। যে যে কাজে পারদর্শী, সে সেই কাজ করতে চেষ্টা করব। কখনো কখনো বিপদের ভেতর থেকে অনেক শুভ উদ্যোগ শুরু হয়। সেই সুযোগটাকে আমরা কাজে লাগাচ্ছি না কেন?

একটা উদাহরণ দিতে চাই। অতি সম্প্রতি আমি যেহেতু অমর একুশে গ্রন্থমেলার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম এবং সেটা ছিল স্বেচ্ছাশ্রম হিসেবে। আমি নিশ্চিত, এমন অনেক পেশাজীবী আছেন, যাঁরা একদম তৈরি হয়ে আছেন সুযোগের জন্য। কঠিন সময়ে যেকোনো ব্যবস্থাপনা তো দুর্বল হবেই, তখন এই মানুষগুলোর আগ্রহ কাজে লাগানোর সুযোগ কেন আমরা হারাচ্ছি? বইমেলা প্রসঙ্গে বলি, ধরলাম আগামী ২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকী হিসেবে এই আয়োজন করা সম্ভব হবে। কিন্তু সেটা তো আগের মতো নিশ্চয়ই নয়, এই আয়োজন না হলে প্রকাশকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে ঠিক; কিন্তু এটা করতে হলে নতুন আঙ্গিকে সব ধরনের সাবধানতা বিবেচনায় রেখে একটা আলোচনা শুরু করতে হবে। এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার অভিজ্ঞতা যেহেতু কারও নেই, তাহলে তো আগ্রহী কমিটি গঠন করেই সেটা করতে হবে। এটা তো একটা বিষয়, এমন আরও কত বিষয় যেগুলো নতুনভাবে পরিকল্পনা না করলে এলোমেলোই থেকে যাবে। বা ঘুরে দাঁড়াতে লম্বা সময় নিয়ে নেবে। অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা নাকি সাময়িক? এক দিনে এক শ টাকা, নাকি পাঁচ দিনে এক শ? এগুলো নিয়ে ঠিকমতো কেন্দ্রীয় এবং আঞ্চলিক আলোচনা হলে একধরনের ইতিবাচক ছাপ পড়বে জীবনযাপনে!

০৫

সংকটকালীন ভূমিকা বলে যে বিষয়টা আছে, এখানে আমাদের দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাস কত চমৎকারভাবে অনুপ্রেরণার কারণ হতে পারে। কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই সাধারণ জনগণ যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। নিজের দেশকে কতটা ভালোবাসলে তারা এটা করতে পারে। এখনো এ দেশের মানুষ তেমনই ভালোবাসে। এখন প্রযুক্তি আছে, জনবল আছে, অবকাঠামো আছে। কী নেই? সম্মিলিত আদর্শিক শক্তি, সামগ্রিক চৈতন্যেও বোঝাপড়া। কিন্তু মানবিকতায় স্পর্শকাতর প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করে সেই প্রক্রিয়াটাও মজবুত করা সম্ভব। সমস্যা আছে, ছিল, থাকবেই। সমাধানের আশাবাদ শুরু হলেই তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে ভবিষ্যতে। বিদেশের মতো অবকাঠামো নয়, চেহারা বা পোশাকি চালচলনও নয়। দরকার সু–অভ্যাস চর্চার স্পৃহা। এ দেশের মানুষ যেহেতু উপলক্ষ উদ্‌যাপনকে সব সময় খুব আপন করে নেয়। তাহলে এই বছর এবং সামনের বছর মুজিব বর্ষ এবং স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীকে মূল উপলক্ষ করে সবার সংকটকালীন দায়িত্ব–সচেতন করতে উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ কি আমরা হাতছাড়া করব? এমন সারিবদ্ধ দিবস ও তারিখের গুরুত্ব কয়টা দেশের আছে, আর কবেই বা পাব আমরা। আমার নিজের বালক বয়সে ১৯৭১–এর স্মৃতি খুব মনে পড়ে। আব্বার এক মাসের বেতন দিয়ে কীভাবে পুরো পরিবারের নয় মাসের শরণার্থী জীবন সামাল দিয়েছিলেন, যা আমাকে এখনো যেকোনো সংকটে ভীষণ স্পৃহা দেয়।

০৬

এই সময়টা খুব স্পর্শকাতর। এখনকার একটা ভুল, স্বাভাবিক সময়ের দশটা–বিশটা ভুলের চাইতেও বেশি। মানুষের গতি–প্রকৃতি সম্পর্কে বোঝার চেষ্টা না করলেও সেটা হবে মস্ত ভুল। যেমন আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সময়ের মতো একদল এক মুহূর্ত অপেক্ষা না করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। একদল হিসাব কষছে কী করলে সহজে একটা ভাবমূর্তি ধারণ করে হিরো সাজা যায়। একদল নানা কনফিউশনে অন্যকে ও নিজেকে জর্জরিত করছে। একদল সুযোগ খুঁজছে কোথায় কী করে ফায়দা লোটা যায়। আর সিংহভাগ নীরব দর্শক হয়ে ভাববে হচ্ছেটা কী? এমন ছন্নছাড়া সময়ে শুভবুদ্ধির মানুষদের আকাঙ্ক্ষা, আশাবাদের দৃষ্টি থাকবে তাদের প্রিয় অভিভাবকদের দিকে। তারা তাদের নিজেদের বিবেক, বুদ্ধি–বিবেচনা যতটুকু আছে, সেটাকে যতটা সম্ভব কাজে লাগাতে চাইবে। হয়েছেও তাই। মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য তারা বসে থাকেনি, থাকবে না। বেশ কিছু নতুনভাবে পরিচিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সামগ্রিক দানের অর্থ দিয়ে জনগণের সহায়তায় মাঠে নেমেছে করোনা প্রভাবের শুরু থেকেই। যেকোনো দুর্যোগে এ দেশে কিছু মানুষ এমনিতেই একটা সহযোগী শক্তি হিসেবে দাঁড়িয়ে যায়। নিঃস্বার্থভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে। এই করোনাযুদ্ধেও এবার তারা সক্রিয় হয়েছে। রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক, ব্যক্তিগত স্বার্থকে মাথায় না এনে এরা কোনো প্রাপ্তি বা প্রত্যাশা ছাড়াই কাজ করে যাবে শেষ শক্তিটুকু থাকা পর্যন্ত। এদের এই স্পৃহা, উৎসাহ শক্তিকে ভবিষ্যতে কাজে লাগানোর প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে কি প্রয়োজন? যদি প্রয়োজনীয় মনে হয়, তবে তার ডেটাবেইস কে তৈরি করবে?

সামান্য কিছু মাঠপর্যায়ের কাজ করতে গিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা বলতে চাই। এখন বিশ্বাসযোগ্যতাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কেউ কাউকে বিশ্বাস করছে না। এই অবিশ্বাসের ভেতর এককালীন হোক আর ধাপে ধাপেই হোক, সুষ্ঠু বিতরণ ব্যবস্থাপনার জন্য প্রকৃত ডেটাবেইস, পরিসংখ্যান না থাকার কারণে সমন্বয় হচ্ছে না ঠিকমতো।

০৭

এই সময়টা এমন যেন চাইলে একটু গভীরভাবে ভেবে সবকিছু নতুন করে শুরু করা যায়। এখন সবচেয়ে জরুরি একমুঠো খেয়ে, পকেটে আগামীর জন্য অর্থ বাঁচিয়ে সুস্থ শরীরে বাঁচতে শেখা। জীবন গেলে যে সব শেষ, এটা বুঝলেই অনেক। এসব বিষয়ে এত দিনে মোটামুটি সবার কিছুটা জানা হয়েছে, ধারণা হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে সেটা নিয়ে আমরা কী করছি? সুযোগ কাজে লাগাচ্ছি? মাঝেমধ্যে কিছু সিদ্ধান্ত দেখে মনে হচ্ছে অবস্থাটা এমন যেন পরীক্ষার হলে ঢোকার আগে মনে হলো রেজাল্টটা ভালো করা দরকার অথবা পরীক্ষার শেষ ঘণ্টা বাজার আগে সন্দেহ হলো মনে হয় সব ভুল লিখেছি। মুশকিল হলো সংকটে সুবিধা নেয় সুযোগসন্ধানীরা। বিভ্রান্ত করবে, নিরুৎসাহিত করবে। অথচ একটা স্বচ্ছ কাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ দেখলেই এগিয়ে আসবে শুভবুদ্ধির মানুষের দল, যারা মানুষকে ভালোবাসে, দেশের মঙ্গল চায়। যারা জ্ঞান, বুদ্ধি, শ্রম অর্পণ করবে নির্দ্বিধায়। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে দেরি করলে তখন হা–হুতাশ ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। জনস্বাস্থ্য, উপার্জন, বাণিজ্য ইত্যাদি ব্যবস্থাপনা ও বোঝাপড়ায় অনেক কিছুই যেহেতু সাংঘর্ষিক! সংস্কৃতি শব্দের পরস্পরবিরোধিতায় সামাজিক শিক্ষা বা চর্চার মানও যেহেতু তেমন শক্ত নয়, তাই কতগুলো বিষয়কে স্পষ্টভাবে এবং সম্মিলিতভাবে বিবেচনাবোধে রোপণ করার কোনো বিকল্প নেই।

এনামুল করিম নির্ঝর
স্থপতি ও নির্মাতা
nirjharke@gmail.com

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *