সাংবাদিকদের পদ,পদবী আছে,শুধু বেতন আর খবর নেয়ার কেউ নেই?

মতামত

সাংবাদিকদের বলা হয় খবরের মানুষ।খবর তাদের জীবন খবরের কাছে অবিরাম পিছু ছুটে চলা তাদের কাজ।আর পাঠকদের কারো কারো মতে সকালে পত্রিকা ছাড়া মুখে এক কাপ চা মুখে যায় না।সকাল বেলা পত্রিকা পড়তে না পারলে মনে হয় সব বৃথা।

অদৃশ্য শক্তির কাছে পৃথিবী আজ পরাজিত, করোনা ভাইরাসে থাবায় বিশ্ব শাসন ব্যবস্থা এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন দেশে দেশে চলছে লগডাউন,বন্ধ হয়ে গেছে অফিস আদালত আর এসময়ে আপনি যখন ঘরে বসে নিরাপদে টিভি,পত্রিকা কিংবা অনলাইন নিউজ পোর্টালে খবর দেখছেন বা পড়ছেন, সেই খবর সংগ্রহের জন্য নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খবর সংগ্রহ করছেন একজন  সাংবাদিক।মহামারী করোনায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন প্রশাসনের পাশাপাশি ডাক্তার, নার্স,স্বাস্থ্যকর্মী ও সাংবাদিকরা ।কিন্তু দুঃখের বিষয় সাংবাদিকদের খোঁজ-খবর কেউ রাখে না। এমন কি যাদের কলমের লেখায় আজ অনেকেই বড় বড় নেতা হয়েছেন তারাও এই কলম সৈনিকদের খোঁজ-খবর রাখে না।‘সুসময় অনেকেই বন্ধুবটে হয়,অসময় হায় হায় কেউ কারো নয়’। সুসময় তো অনেককেই পাশে পাবেন। দুঃসময়, দুর্যোগে কজন পাশে থাকে।

আজ বুঝিয়ে দিয়েছে করোনা। এই মুহূর্তে সাংবাদিকরা তাঁদের জীবনের ঝুঁকি জেনেও দিন-রাত কাজ করে চলেছেন, তুলে ধরছেন নানা অনিয়ম, দুর্নীতিসহ পুরো জাতির সুখ দুঃখ, করছেন সাবধানতা, দিয়ে যাচ্ছেন সতর্কবার্তা। কিন্তু একবার কি কেউ খোঁজ নিয়ে জেনেছে এই মানুষগুলো কেমন আছে, কিভাবে চলছে তাদের সংসার। নিম্ম-বিত্তদের ত্রাণ বিতরণ করে যাচ্ছেন জনপ্রতিনিধি রাজনীতিবিদ ও সমাজের বিত্তশালীরা,সেখানেও নিরলস ভাবে কাজ করছেন সাংবাদিকরা, ঘরে খাবার নেই, বউ-বাচ্চা না খেয়ে থাকে,তবুও তারা আপনাদেরকে সমাজ সেবক বানাচ্ছে সাংবাদিকরা। সেই আপনারাই আজ নেতা,জনপ্রতিনিধি,সমাজসেবক হয়ে ত্রাণ বিতরণের সময় সাংবাদিকদের কথা বেমালুম ভুলে গেছেন।

ইতিমধ্যে সরকার আরো ছুটি বাড়িয়েছে। সরকারের এই ছুটির সময়ে কোন কর্মী চাকরীচ্যুত হবেন না, তারা ঘরে অবস্থান করেই সরকারি সমস্ত সুযোগ সুবিধা ভোগ করবেন। একমাত্র ব্যতিক্রম আমাদের এই গণমাধ্যম খাত। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা গণমাধ্যমের প্রতিটি সেক্টরের কর্মীদের জন্য জীবনের নিরাপত্তা, পারিবারিক সুরক্ষা ও কর্মজীবনে নিরাপত্তায় নেই কোন সুস্পষ্ট নির্দেশনা। চাকুরী আছে,পদ আছে,পদবীও আছে, কিন্তু বেতন নেই। এমন একটি মহান, গুরুত্বপুর্ণ ও সম্মানজনক পেশা সাংবাদিকতা।কারণ একজন সাংবাদিকের সংগৃহীত সমাজের নানাবিধ উন্নয়ন,ইতিবাচক ও নেতিবাচক খবরাখবর মাধ্যমে একটি প্রিন্টিং গণমাধ্যম প্রকাশিত হয় বা একটি ইলেকট্রনিক্স গণমাধ্যম পরিচালিত হয়।

দুঃখের বিষয় হলো সেইসব জেলা-উপজেলায় কর্মরত গণমাধ্যম কর্মী, যাদের পদ এবং পদবী আছে, নেই শুধু বেতন-ভাতা, তাদের জীবন কিভাবে চলে তার খবর কেউ রাখে না (হাতে গোনা কয়েকটি গণমাধ্যম জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের সম্মানী দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগন্য)।

আজ যারা মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ করে মানুষের পাশে আছেন, আপনাদের জন্য, জাতির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তারাই তো প্রকৃত মানুষ।আমার এ লেখা কারো ভাল নাও লাগতে পারে তাই দয়া করে খারাব মন্তব্য  না করার জোর অনুরোধ জানাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *