ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের করণীয়

শিক্ষা

শুভেচ্ছা নিও। শিক্ষাজীবনে এইচএসসি পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের যে বিষয়গুলোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে তুলে ধরা হলো।

১. এখন থেকে বাসায় পুরো বই রিভিশন দেবে। যেসব প্রশ্ন কঠিন মনে হবে সেগুলোকে বারবার পড়ে আয়ত্তে আনবে।

২. বাসায় একা একা বেশ কয়েক সেট মডেল পরীক্ষা দেবে। যেসব বিষয় কঠিন মনে হবে সেগুলোতে বেশি মডেল টেস্ট দেবে।

৩. মেইন বই সব বিষয়েও পুরো রিভিশন দেবে এতে করে যে কোনো ধরনের প্রশ্ন এলে উত্তর দিতে পারবে। মেইন বই পড়লে নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নগুলো সবচেয়ে ভালোভাবে উত্তর দিতে পারবে এবং সৃজনশীল প্রশ্নগুলোর উত্তরও ভালোভাবে দিতে পারবে।

৪. পরীক্ষার খাতায় ঘষামাজা কালি লেপ্টানো করে লিখবে না। কোনো কিছু কাটতে হলে একটান দিয়ে কেটে শুদ্ধটি লিখবে। উত্তর যত কম কাটা যায় ততই ভালো।

৫. পরীক্ষার প্রশ্নগুলো সাধু ও চলিত ভাষা মিশ্রণ করে লিখবে না, যে কোনো একটি ভাষায় লিখবে।

৬. যেসব বিষয়ে চিত্র, মানচিত্র, সাংকেতিক চিহ্ন, তালিকা সূচি, চার্ট, ডায়াগ্রাম ইত্যাদি আঁকা প্রয়োজন সেগুলো অবশ্যই আঁকবে তবেই অধিক নম্বর পাবে। চিত্র হলো কোনো কোনো বিষয়ের অলঙ্কার তাই এটি ছাড়া সুন্দর উত্তর হয় না ও ভালো নম্বর পাওয়া যায় না। ভূগোল, ইতিহাস, অর্থনীতি, পৌরনীতি, ইসলামের ইতিহাস, পরিসংখ্যান, জীববিজ্ঞান, পদার্থ, রসায়ন ইত্যাদি বিষয়ে এসব চিত্র আঁকা অবশ্যই কর্তব্য।

৭. পরীক্ষার প্রশ্নোত্তরের জন্য বিভিন্ন রঙের সাইন পেন ব্যবহার করে হেডিং ও সাব-হেডিংগুলোকে আন্ডারলাইন করতে পার, তবে সে লাল বা লালজাতীয় কালি ব্যবহার না করাই ভালো। বিশেষ করে সবুজ, কালো, নীল, গোলাপি ইত্যাদি ধরনের কালি ব্যবহার করা যেতে পারে।

৮. পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর বেশি বড় না বেশি ছোট করে না লিখে সময় অনুপাতে উত্তর দেবে।

৯. প্রশ্নে যা চাওয়া হয়েছে তার উত্তরই সঠিকভাবে লিখে দেবে অযথা প্রশ্নোত্তর বড় বা ছোট করে লেখার দরকার নেই। উত্তরের মধ্যে যাতে পরীক্ষক সঠিক বা পারফেকট উত্তরটুকু খুঁজে পায় তার ব্যবস্থা করবে।

১০. কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে সব পরীক্ষর্থী আসন গ্রহণ করবে না হলে পরীক্ষার্থীকে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না। তাই প্রতিদিন পরীক্ষার হলে কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে যাবে।

১১. প্রশ্নোত্তর পেঁচানো হাতের লিখা লিখবে না এবং বেশি ছোট আকারে বা বেশি বড় অক্ষরে লিখবে না মাঝামাঝি ধরনের অক্ষরে সব প্রশ্নের উত্তর দেবে।

১২. যেসব প্রশ্ন সবচেয়ে ভালো পার সেগুলো প্রথমে দেবে তারপর পর্যায়ক্রমে কম পারা প্রশ্নগুলো সবার শেষে দেবে।

১৩. পরীক্ষার প্রশ্ন হাতে পেয়ে ৫ মিনিট প্রশ্নটিকে ভালোভাবে পড়বে এবং তারপর উত্তর দেবে এবং ১০ মিনিট আগে লেখা শেষ করে পুরো খাতাটি রিভিশন দেবে। এতে কোনো ভুলত্রুটি থাকলে সহজেই সংশোধনের সুযোগ পাবে।

১৪. পরীক্ষার আগের দিন রাতে প্রবেশপত্র রেজি. কার্ড, জ্যামিতি বক্স, সাধারণ ক্যালকুলেটার ও অন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী গুছিয়ে রাখবে।

-জুলহাস প্রামাণিক,সহকারী অধ্যাপক, একেএম রহমত উল্লাহ কলেজ, ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *