করোনার সময়ে বিল গেটস যে বইগুলো পড়ছেন

প্রযুক্তি
অনলাইন ডেক্স:: ব্যক্তিগত ব্লগ ‘গেটস নোটস’-এ প্রতি বছরের মতো এবারও নিজ বইয়ের তালিকা থেকে বেশ কিছু বইয়ের নাম জানিয়েছেন মার্কিন ধনকুবের ও জনহিতৈষী বিল গেটস। বইয়ের তালিকায় রয়েছে ১৯১৮ সালের ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি।
সম্প্রতি গেটস নোটসের এক ব্লগ পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘বর্তমানে আমার অধিকাংশ কথাবার্তা ও বৈঠকের বিষয়বস্তুতে থাকে কোভিড-১৯ এবং আমরা কীভাবে স্রোতের ধারা পাল্টে দিতে পারব- সে বিষয়টি নিয়ে। মানুষ আমাকে প্রায়ই জিজ্ঞাসা করে, আমি কী পড়ছি বা দেখছি। কারণ মানুষ হয় মহামারী সম্পর্কে জানতে চায় আর না হয় মনোযোগ অন্যদিকে নেয়ার রাস্তা খোঁজে’। বইয়ের পাশাপাশি এবার কিছু টিভি অনুষ্ঠান এবং চলচ্চিত্রের নামও তালিকাভুক্ত করেছেন এ প্রযুক্তি ব্যক্তিত্ব।
আজকের আয়োজনে থাকছে প্রযুক্তির এ মহারথীর কোন বইগুলো রয়েছে ‘২০২০ সালের গ্রীষ্মকালীন বইয়ের তালিকা’তে।
দ্য গ্রেট ইনফ্লুয়েঞ্জা
বইটি লিখেছেন জন এম. ব্যারি, ১৯১৭ সালের ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারী নিয়ে। বইটির দীর্ঘ বর্ণনায় মূলত এটিই বলেছেন, মহামারীর সময়ে সবচেয়ে জরুরি হল রাষ্ট্রের তথা সংবাদমাধ্যমের সত্যবাদিতা। স্প্যানিশ ফ্লু’র ইতিহাস ও কার্যকারণ নিয়ে রচিত বইটি প্রকাশিত হয়েছিল ২০০৪ সালে। বইয়ের বর্ণনায় দেখা যায়, তখনকার রাজনৈতিক এবং জনস্বাস্থ্যবিষয়ক দায়িত্বপূর্ণ ব্যক্তির মুখে উচ্চারিত হয়েছে, ‘এটি সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা ছাড়া অন্য কিছু নয়। তাই ভয় পাওয়ার কিছু নেই।’ করোনাভাইরাসের আগমনে বিভিন্ন রাষ্ট্রের দায়িত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রতিক্রিয়াও ছিল একই ধরনের। গেটস বলছেন, ‘বইটি আপনাকে মনে করিয়ে দেবে, আমরা এখনও একই ধরনের অনেক চ্যালেঞ্জ সামলাচ্ছি’।
গুড ইকোনমিক্স ফর হার্ড টাইমস
এমআইটি অধ্যাপক এস্তার ডুফলো এবং অভিজিত ব্যানার্জির এ বইটি অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলেছে, বেশ কিছু ব্যাপারের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে। বইটির জন্য গত বছর নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন এস্তার ডুফলো ও অভিজিত ব্যানার্জি।
দ্য চয়েস
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ‘অউশউইটজ’ থেকে বেঁচে ফেরা এডিথ ইভা ইগারের স্মৃতিচারণ। ওই সময়ে তার বয়স ছিল মাত্র ১৬। পরবর্তী সময়ে ইগার যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং একজন মনোবিজ্ঞানী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। গেটস নোটসের ব্লগ পোস্টে বিল গেটস লিখেছেন, ‘আমি মনে করি, বর্তমানে কীভাবে কঠিন পরিস্থিতি সামাল দেয়া যায়- সে ব্যাপারে তার দেয়া পরামর্শে স্বস্তি অনুভব করবেন অনেকেই’।
ক্লাউড অ্যাটলাস
গেটসের তালিকায় রয়েছে ডেভিড মিচেলের ২০০৪ সালের ‘মাল্টি-প্লট’ উপন্যাস ক্লাউড অ্যাটলাস। বইটির সাহিত্য কাঠামো লকডাউনের সময় পাঠককে যথেষ্ট ব্যস্ত রাখতে পারবে। ‘এটি হচ্ছে সেই ধরনের উপন্যাস, যা আপনি পড়ে শেষ করারও বহুদিন পর পর্যন্ত আপনাকে ভাবাবে এবং কথা বলাবে’।
দ্য রাইড অব আ লাইফটাইম
বব আইগারের লেখা স্মৃতিকথা। ২০১৯ সালে প্রকাশিত এ বইতে ডিজনির তত্ত্বাবধানের দিনগুলো সম্পর্কে লিখেছেন বব আইগার। বইটি প্রসঙ্গে বিলের ভাষ্য হচ্ছে, ‘কয়েক বছরের মধ্যে আমার পড়া সেরা ব্যবসাভিত্তিক বইগুলোর একটি’। এ ছাড়াও অনলাইনে ব্রিজ খেলছেন বলেও জানিয়েছেন প্রযুক্তি মহারথী মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *