করোনাভাইরাস: মঙ্গলবার ডিসিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স

জাতীয়

অনলাইন ডেস্ক:  করোনাভাইরাসের মহামারি প্রতিরোধে ডিসিদের সঙ্গে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ তথ্য জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি জানান, করোনা মোকাবেলায় মাঠ প্রশাসন কীভাবে কাজ করছে তা জানার পাশাপাশি তাদের দিকনির্দেশনা দিতে এ কনফারেন্স করবেন প্রধানমন্ত্রী।

সোমবার গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে সকল বিভাগীয় কমিশনারদের ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত করা হবে। বিভাগীয় কমিশনাররা তাদের আওতাধীন জেলার ডিসিদের যুক্ত রাখবেন। প্রধানমন্ত্রী যখন যে ডিসির সঙ্গে কথা বলতে চাইবেন তখন সেই ডিসিকে যুক্ত করা হবে। এভাবে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা ওই ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত থাকবনে বলেও জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

উল্লেখ্য, করোনার কারণে অবরুদ্ধ দশার মধ্যে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ যেন খাদ্য সঙ্কটে না পড়ে সে বিষয়ে ২৫ মার্চ রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, নিম্ন আয়ের ব্যক্তিদের ‘ঘরে-ফেরা’ কর্মসূচির আওতায় নিজ নিজ গ্রামে সহায়তা প্রদান করা হবে। গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বিনামূল্যে ঘর, ৬ মাসের খাদ্য এবং নগদ অর্থ প্রদান করা হবে। জেলা প্রশাসনকে এ ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভাষাণচরে ১ লাখ মানুষের থাকার ও কর্মসংস্থান উপযোগী আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে কেউ যেতে চাইলে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বিনামূল্যে ভিজিডি, ভিজিএফ এবং ১০ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। একইভাবে বিনামূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসা সেবা ও দেওয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত সোয়া সাত লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন প্রায় ৩৪ হাজার মানুষ। আর সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন দেড় লাখের বেশি মানুষ।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয়েছে গত ৮ মার্চ। এ পর্যন্ত করোনায় বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৯, মারা গেছেন ৫ জন। এছাড়া সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ১৯ জন।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ২৬ মার্চ থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। পরিস্থিতি বিবেচনায় এই ছুটি ১১ এপ্রিল কিংবা ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে সরকারের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ছুটির সময়ে অফিস-আদালত থেকে গণপরিবহন, সব বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল, জরুরি সেবা এই বন্ধের বাইরে থাকছে। জনগণকে ঘরে রাখার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে সশস্ত্র বাহিনীও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *